জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন নারীদের ওপর হামলা ও হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, নারীদের নিয়ে কোনো ধরনের অশোভন আচরণ সহ্য করা হবে না এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার রংপুর-৪ আসনের আওতাধীন এলাকায় এনসিপির নির্বাচনী পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, তার এলাকায় নারীদের ওপর সম্প্রতি হামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন ও জুলুমের শিকার হয়েছে। বহু গুম, খুন ও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা হলেও দুর্নীতি, ঘুষ এবং রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।
এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে একটি সংস্কারমূলক বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্য গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দালালনির্ভর রাজনীতি কমিয়ে জনগণের সেবা সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চান তারা।
আখতার হোসেন বলেন, কাউনিয়া ও হারাগাছা এলাকায় সব আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ্য বোর্ডে প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি গর্ভবতী নারীদের নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল সেন্টার চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, এখানে ‘না’ ভোটের কোনো সুযোগ নেই। ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কেবল স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নয়, বরং সরাসরি মানুষের বাড়িতে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
নিজেদের নিয়ে বিদ্রূপের জবাবে আখতার হোসেন বলেন, রংপুরের মানুষ অতীতে বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্তির পথে ভূমিকা রেখেছে। সেই আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় তারা উত্তরবঙ্গসহ সারাদেশের উন্নয়নে কাজ করে যাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।