বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ঐক্য এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করা। শনিবার ২১ মার্চ সকালে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার নোয়াকান্দা-বক্তারপুর ঈদগাহ মাঠে ঈদুল ফিতরের জামাত শেষে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তার বক্তব্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক সংহতি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং গণতন্ত্রে জনগণের ভূমিকার বিষয়গুলো বিশেষভাবে উঠে আসে।
ড. মঈন খান বলেন, মুসলমানদের উচিত ইসলামের শান্তির বাণী অনুসরণ করে নিজেদের মধ্যে সব ধরনের দ্বন্দ্ব-বিভেদ দূর করা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর শুধু আনন্দের উৎসব নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সৌহার্দ্য এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শিক্ষাও দেয়। তিনি বলেন, এই ঈদের শিক্ষা থেকে মানুষকে ন্যায়, সত্য এবং সঠিক পথ অনুসরণ করার অনুপ্রেরণা নিতে হবে। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, ধর্মীয় চেতনা শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার শক্তিও হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্বের মুসলমান একে অপরের ভাই এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কোনো মুসলমান বিপদে পড়লে অন্য মুসলমানদের দায়িত্ব তার পাশে দাঁড়ানো। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি মুসলমানদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সত্য, ন্যায় ও সঠিক পথ অনুসরণ করলে আল্লাহর রহমত লাভ করা সম্ভব এবং মুসলিম বিশ্বও তার গৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারবে। এই বক্তব্যে তিনি মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধের পাশাপাশি বৈশ্বিক সংকটের সময় পারস্পরিক দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তার বক্তব্যে এসেছে। তিনি বলেন, মুসলমানদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবেলা করতে হলে ইসলামের শক্তি, নৈতিকতা এবং আদর্শের ওপর ভর করতে হবে। ইসলাম, রাসুল (সা.) এবং আল্লাহর প্রদর্শিত পথে যদি মুসলমানরা নিজেদের সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারে, তাহলে কোনো অপশক্তিই তাদের ক্ষতি করতে পারবে না। এই অংশে তিনি ধর্মীয় ঐক্য ও নৈতিক দৃঢ়তার বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে বোঝা যায়।
ড. মঈন খান তার বক্তব্যে গণতন্ত্রের প্রসঙ্গও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মূল কথা হলো জনগণ। তাই গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাওয়া মানে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে জনগণ তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন এবং এজন্য তিনি এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের সেবা করাই রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এবং ইসলামও মানুষ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার শিক্ষা দেয়। এই বক্তব্যে তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির মধ্যে একটি সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছেন।
তার এই মন্তব্যে দুটি বড় বিষয় একসঙ্গে উঠে এসেছে। প্রথমত, ইসলামকে তিনি শান্তি, ন্যায়, ঐক্য ও জনকল্যাণের ধর্ম হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। দ্বিতীয়ত, তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক চর্চাকে জনগণের সেবার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ঈদের ধর্মীয় আবহে রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে, তখন তার এই বক্তব্য স্থানীয় জনগণের কাছে নৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় ধরনের আহ্বান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইশতিয়াক আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাক্তার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন এবং যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়াসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের অন্য নেতারা। তাদের উপস্থিতি এ অনুষ্ঠানের রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, নরসিংদীর পলাশে ঈদুল ফিতরের জামাতে দেওয়া ড. আবদুল মঈন খানের বক্তব্যে ধর্মীয় অনুপ্রেরণা, সামাজিক ঐক্য, বৈশ্বিক মুসলিম সংহতি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং জনসেবামুখী রাজনীতির বার্তা উঠে এসেছে। তিনি ইসলামকে শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক অনুশাসন হিসেবে নয়, বরং মানুষের জন্য কাজ করা, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের পাশে দাঁড়ানোর একটি নৈতিক পথনির্দেশনা হিসেবেও তুলে ধরেছেন।
কসমিক ডেস্ক