গণভোট নয়, রাজনৈতিক আচরণেই পরিবর্তন আসে: আসিফ সালেহ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

গণভোট নয়, রাজনৈতিক আচরণেই পরিবর্তন আসে: আসিফ সালেহ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 27, 2026 ইং
গণভোট নয়, রাজনৈতিক আচরণেই পরিবর্তন আসে: আসিফ সালেহ ছবির ক্যাপশন:
ad728

আসন্ন গণভোটে এক প্রশ্নে ৮৪টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে জনগণের অনুমোদন নেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে ‘চালাকি’ ও অস্বচ্ছতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। তিনি বলেছেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেই পরিবর্তন আসবে—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর এবং অসৎ।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ সালেহ গণভোটের প্রশ্ন কাঠামো, প্রক্রিয়া ও সরকারের প্রচার নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, এই গণভোট নিয়ে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে বিভ্রান্ত।

ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আপনি কি জানেন এই গণভোটে আপনি কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার জন্যও ভোট দিচ্ছেন? আমি জানতাম না। শুধু আমি না—বাড়ির বুয়া থেকে ব্যারিস্টার বন্ধু পর্যন্ত সবাই কনফিউসড এই গণভোট নিয়ে!”

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের আলাদা ব্যালটে ভোটারদের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থাকবে—জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে তারা ‘হ্যাঁ’ না ‘না’ ভোট দেবেন।

আসিফ সালেহ বলেন, বাস্তবে জুলাই সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কার এবং বাকি ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। অথচ এই বিস্তৃত ও গভীর পরিবর্তনগুলোকে একটিমাত্র প্রশ্নে বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

তিনি লিখেছেন, একটি ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন শাসনব্যবস্থা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো, ভবিষ্যৎ সরকারের ওপর বাধ্যতামূলক ৩০ দফা অঙ্গীকার এবং নতুন উচ্চকক্ষ গঠনের মতো দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত অনুমোদনের কথা বলা হচ্ছে। এতে ভোটারদের প্রকৃত পছন্দ প্রকাশের সুযোগ থাকছে না।

আসিফ সালেহ বলেন, কেউ হয়তো নির্বাচন কমিশন সংস্কারের পক্ষে, কিন্তু উচ্চকক্ষ গঠনের বিপক্ষে। কেউ আবার কিছু সংস্কারে একমত, অন্যগুলোর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। কিন্তু এই গণভোটে সেই ভিন্নমত জানানোর কোনো সুযোগ নেই।

তিনি সরকারের প্রচারের সমালোচনা করে বলেন, ভোটারদের বলা হচ্ছে—‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেই পরিবর্তন আসবে। এমনকি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও একটি ভিডিও বার্তায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এতে বৈষম্য ও শোষণ থেকে মুক্তি মিলবে এবং নতুন বাংলাদেশের দরজা খুলবে।

এ প্রসঙ্গে আসিফ সালেহ বলেন, “এটি একটি বিভ্রান্তিকর এবং অসৎ দাবি। কোনো গণভোট নিজে থেকেই পরিবর্তন নিশ্চিত করতে পারে না। পরিবর্তন আসে রাজনৈতিক আচরণ, দলীয় সংস্কার, জবাবদিহি এবং বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে।”

গণভোট প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তির ব্যাখ্যায় তিনি আরও বলেন, ভোটারদের জানানো হচ্ছে না—এই সংস্কারগুলোর খরচ কত হবে, বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো আদৌ সমাধান করবে কি না। তাঁর মতে, আপত্তি সংস্কারের বিরুদ্ধে নয়, বরং প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা ও তাড়াহুড়োর বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে সম্মতি তখনই বৈধ, যখন তা বোঝাপড়ার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। না বুঝে সম্মতি আদায় করা হলে তা প্রকৃত সম্মতি নয়।”

আসিফ সালেহ প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশের চাবি ভোটারদের হাতে বলা হলেও তারা আদৌ জানেন কি না—কোন তালা কোন চাবি দিয়ে খুলতে যাচ্ছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সিটি গভর্নমেন্ট ছাড়া রাজধানী পরিচালনা অসম্ভব: আবদুস সালাম

সিটি গভর্নমেন্ট ছাড়া রাজধানী পরিচালনা অসম্ভব: আবদুস সালাম