ডিম উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারমূল্যের বড় ধরনের ব্যবধানের অভিযোগ তুলে সিরাজগঞ্জ জেলার পোল্ট্রি খামারিরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। খামারিদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা লোকসান গুনছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে।
খামার মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে গড়ে প্রায় ৯ টাকা ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু খামার পর্যায়ে সেই ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় ৭ টাকা ৭০ পয়সা দরে। ফলে প্রতিটি ডিমেই লোকসান গুনতে হচ্ছে উৎপাদকদের। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের দাবিতে জেলার বিভিন্ন এলাকার খামারিরা বৈঠক করে ডিম বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
খামারিদের অভিযোগ, বাজারে একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী চক্র ডিমের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের দাবি, উৎপাদকদের কাছ থেকে কম দামে ডিম সংগ্রহ করে ভোক্তাদের কাছে তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে উৎপাদক ও ভোক্তা—উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আর মধ্যবর্তী কিছু ব্যবসায়ী লাভবান হচ্ছেন।
সদর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকার খামারিরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পোল্ট্রি খাদ্য, ওষুধ, বিদ্যুৎ, পরিবহন এবং শ্রমিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিমের দাম বাড়েনি। ফলে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারি ইতোমধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে ডিম বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, খামার থেকে স্বাভাবিক সরবরাহ না আসায় বাজারে ডিমের প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে। যদি পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বাজারে সরবরাহ সংকট আরও প্রকট হতে পারে।
ক্রেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ডিম দেশের সাধারণ মানুষের অন্যতম সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী প্রাণিজ খাদ্য। বাজারে এর সরবরাহ কমে গেলে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন ভোক্তারা। তারা দ্রুত আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিমের মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি সরকারি নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হয়। তাদের মতে, বর্তমানে বাজারে চাহিদা কিছুটা কম থাকায় দামেও প্রভাব পড়েছে। তবে উৎপাদকদের অভিযোগ এবং বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ডিম উৎপাদক, ব্যবসায়ী এবং সরকারের মধ্যে সমন্বিত আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা জরুরি। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন কমে গিয়ে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক