মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সরকারি সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। সফরের প্রথম পর্ব শেষে তিনি সরাসরি চীন সফরে যাবেন, যেখানে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই দুই দেশ সফরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে সরকার। সফর শুরুর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল স্বাক্ষরিত হতে পারে।
তিনি আরও জানান, বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর।
সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে। এতে প্রায় ২৭ থেকে ২৮ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সফরটি কার্যকর ও ফলপ্রসূ রাখতেই প্রতিনিধিদলের আকার সীমিত রাখা হয়েছে।
আগামী ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া চীন সফরকালে তিনি লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা সামার দাভোস ফোরামের ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে চীন সফরে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, সংযোগ এবং উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে। সফর শেষে আগামী শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক