বিনিয়োগ বাড়াতে করপোরেট কর কমানোর দাবি জেবিসিসিআইর The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বিনিয়োগ বাড়াতে করপোরেট কর কমানোর দাবি জেবিসিসিআইর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 10, 2026 ইং
বিনিয়োগ বাড়াতে করপোরেট কর কমানোর দাবি জেবিসিসিআইর ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও প্রতিযোগিতামূলক ও ব্যবসাবান্ধব করতে ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে একাধিক নীতি সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে Japan-Bangladesh Chamber of Commerce and Industry (জেবিসিসিআই)।

সংগঠনটি বলেছে, বর্তমান করপোরেট করহার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় দেশে বিনিয়োগে চাপ তৈরি হচ্ছে। তাই করপোরেট করহার ২০ শতাংশে নামানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

রবিবার (১০ মে) রাজধানীর বারিধারায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সেখানে দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ কাঠামো, করনীতি এবং শিল্পখাতের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

জেবিসিসিআইয়ের মতে, করপোরেট কর ২০ শতাংশে নামানো হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নতুন শিল্প স্থাপন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কর কাঠামো সহজ করা জরুরি। বর্তমানে অনেক দেশে করপোরেট করহার ১৫% থেকে ২৫% এর মধ্যে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশ যদি ২০% হার নির্ধারণ করে, তবে এটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।

সংগঠনটির সভাপতি তারেক রফিক ভূইয়া বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে কর কাঠামোর সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।

এছাড়া অটোমোবাইল খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে মতিউর রহমান বলেন, স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে বছরে শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব।

জেবিসিসিআই আরও জানিয়েছে, শুধু করপোরেট কর নয়, উৎসে কর বা টিডিএস কমানোরও প্রয়োজন রয়েছে। তাদের মতে, বর্তমানে অতিরিক্ত টিডিএসের কারণে ব্যবসা পরিচালনায় নগদ প্রবাহে ৮–১২ শতাংশ চাপ তৈরি হয়।

এছাড়া ভ্যাট ব্যবস্থার সংস্কারও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। সংগঠনটি দ্রুত স্বয়ংক্রিয় ভ্যাট রিফান্ড ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে।

বর্তমানে ভ্যাট রিফান্ড পেতে কয়েক মাস সময় লাগে, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি করে। ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে ৩০–৪৫ দিনের মধ্যে রিফান্ড দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

রপ্তানিমুখী খাতগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা বাড়ানোরও প্রস্তাব এসেছে। তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি ও ওষুধ শিল্পে শুল্ক ছাড় এবং প্রণোদনা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

এসব খাত বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির বড় অংশ জোগান দিচ্ছে। তাই তাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করে জেবিসিসিআই।

সংগঠনটির মতে, একটি আধুনিক ও ডিজিটাল কর ব্যবস্থা ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, করনীতি সহজ ও স্বচ্ছ হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং দেশে শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।

সবশেষে জেবিসিসিআই মনে করে, আগামী বাজেটে এসব বাস্তবমুখী সংস্কার গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দিনাজপুরে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে সহকর্মীকে যৌন নিপীড়নের অভিযো

দিনাজপুরে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে সহকর্মীকে যৌন নিপীড়নের অভিযো