মন্ত্রণালয়কে ইবাদতখানা হিসেবে দেখেন শিক্ষামন্ত্রী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মন্ত্রণালয়কে ইবাদতখানা হিসেবে দেখেন শিক্ষামন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 15, 2026 ইং
মন্ত্রণালয়কে ইবাদতখানা হিসেবে দেখেন শিক্ষামন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, তিনি মন্ত্রী পদকে চাকরি হিসেবে নয়, বরং ইবাদত হিসেবে দেখেন। তার মতে, দেশের জন্য কাজ করাকে তিনি দায়িত্বের পাশাপাশি একটি ইবাদতের মতোই মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি মন্ত্রণালয়কে নিজের কর্মস্থল নয়, বরং একটি ইবাদতখানা হিসেবে বিবেচনা করার কথাও জানিয়েছেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব)’ আয়োজিত ইফতার-পরবর্তী এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগামী ১৮০ দিনের জন্য একটি কর্মসূচি গ্রহণ করতে চান, যার মাধ্যমে এমন একটি ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হবে যা দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তার মতে, পরিকল্পিতভাবে ধীরস্থিরভাবে কাজ করলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তিনি বলেন, তার লক্ষ্য হলো এমনভাবে কাজ করা যাতে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত বা তড়িঘড়ি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়। এজন্য তিনি সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাজের গতি নিয়ে তিনি কিছুটা অসন্তোষও প্রকাশ করেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের তিনি ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করেন। তার মতে, যারা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন তারা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন।

শিক্ষা খাতে বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের বিষয়েও কথা বলেন। এই পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৫ থেকে ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে অনেক শিক্ষক বিভিন্ন সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই অভিজ্ঞতার সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এর মাধ্যমে বঞ্চিত শিক্ষকদের সুযোগ দেওয়ার একটি চেষ্টা করা হয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রী ২০২৭ সালের নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে এটি তার অন্যতম প্রধান মিশন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত শর্ত বাতিল বা শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন মতামত উঠে এসেছে এবং তা নিয়ে আলোচনা চলছে। অতীতেও বিভিন্ন সময় এই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বিধান ছিল। তাই বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের সভাপতি ফারুক হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান সালমান, সহ-সভাপতি শাহেদ মতিউর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক আসিফ হাসান কাজল এবং অর্থ সম্পাদক নাজিউর রহমান সোহেলসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং শিক্ষা খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তার মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দেশে হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৮৭

দেশে হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৮৭