যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কৌশল বদল ইউক্রেনের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কৌশল বদল ইউক্রেনের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 30, 2026 ইং
যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কৌশল বদল ইউক্রেনের ছবির ক্যাপশন:
ad728

রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আরও আক্রমণাত্মক সামরিক কৌশল গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা ভেঙে দিতে প্রতি মাসে অন্তত ৫০ হাজার রুশ সেনাকে হত্যা বা গুরুতরভাবে আহত করাই এখন ইউক্রেনের প্রধান লক্ষ্য।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ইউক্রেনের সামরিক সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি এই নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেন।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীর দায়িত্ব হলো দখলদার বাহিনীকে এমন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত করা, যাতে রাশিয়া নতুন সেনা পাঠিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে না পারে। তিনি বলেন, “রাশিয়া এক মাসে যত সেনা পাঠাতে পারে, তার চেয়েও বেশি ক্ষয়ক্ষতি করা আমাদের লক্ষ্য। প্রতি মাসে ৫০ হাজার সেনা হতাহত করাই সর্বোত্তম মাত্রা।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৩৫ হাজার রুশ সেনা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছে। নভেম্বর মাসে এই সংখ্যা ছিল ৩০ হাজার এবং অক্টোবরে ২৬ হাজার। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই পরিসংখ্যানে এমন আহত সেনারাও অন্তর্ভুক্ত, যারা আর কখনো যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরতে পারবে না।

ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি জানান, শুধু ডিসেম্বর মাসেই ৩৩ হাজারের বেশি রুশ সেনা নিশ্চিতভাবে নিহত হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার প্রায় ১২ লাখ সেনা নিহত বা আহত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানিয়েছে, রাশিয়ার মোট হতাহতের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ, যার মধ্যে অন্তত ৩ লাখ ২৫ হাজার নিহত। ইউক্রেনের হতাহত প্রায় ৬ লাখ, নিহত সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার। তবে আলজাজিরা জানিয়েছে, এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে যুদ্ধ কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। রাশিয়া নতুন করে বড় কোনো ভূখণ্ড দখল করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ২০২২ সালের মার্চে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম দিকে ইউক্রেনের এক-চতুর্থাংশ দখল করলেও পরবর্তী সময়ে কিয়েভ, খারকিভ, সুমি ও চেরনিহিভ অঞ্চল থেকে রুশ বাহিনীকে পিছু হটতে হয়।

জেলেনস্কির নতুন কৌশলের মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ড্রোন যুদ্ধ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে আঘাত হানা লক্ষ্যবস্তুর প্রায় ৮০ শতাংশেই ব্যবহৃত হচ্ছে ড্রোন। গত এক বছরে ৮ লাখ ১৯ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

ড্রোন অপারেটরদের জন্য পয়েন্টভিত্তিক পুরস্কার ব্যবস্থাও চালু করেছে ইউক্রেন। এর আগে ২০২৪ সালে রুশ সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের জন্য নগদ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি ডিজিটাল রূপান্তর মন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ড্রোন উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করেছে কিয়েভ।

এদিকে রাশিয়া ইউক্রেনের শহর ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। সর্বশেষ হামলায় দেশজুড়ে প্রায় ১২ লাখ বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম চালু রেখেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইউক্রেনের শহরগুলোতে হামলা না চালানোর অনুরোধে সাড়া পুতিনের

ইউক্রেনের শহরগুলোতে হামলা না চালানোর অনুরোধে সাড়া পুতিনের