এপস্টেইন কাণ্ড ও জামায়াত আমিরের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ফেনীতে একই দিনে তিনটি রাজনৈতিক দলের পৃথক কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলজুড়ে ফেনী শহরের বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী ছাত্রশিবির এবং বিএনপির তিন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক বিক্ষোভ ও মিছিল কর্মসূচি পালন করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে ফেনী জেলা ইসলামী ছাত্রশিবির বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফেনী-৩ আসনের দলীয় প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হওয়া, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে তার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে শহরের ঐতিহাসিক মিজান ময়দান থেকে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে দুপুর ২টায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে নারীদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করে ফেনী জেলা যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল। তারা সালাম কমিউনিটি সেন্টার থেকে মিজান ময়দান পর্যন্ত একই সময় ও একই স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির আশঙ্কায় বিকেল থেকেই মিজান ময়দানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে সংঘাত এড়াতে ছাত্রশিবির তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কর্মসূচির স্থান পরিবর্তন করে শহরের ওয়াপদা মাঠে সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়।
বিকেল ৫টার দিকে ওয়াপদা মাঠ থেকে মিছিল শুরু করে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা শহীদ শহিদুল্লা কায়সার সড়ক প্রদক্ষিণ করে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হন। সেখানে ছাত্রশিবির ফেনী জেলা সভাপতি আবু হানিফ হেলাল অভিযোগ করে বলেন, আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিতে মিন্টুর নাম থাকার দাবি করেন এবং কোনো নারী নিপীড়ক বা শিশু নির্যাতনকারীর জায়গা বাংলায় হবে না বলে মন্তব্য করেন।
একই সময়ে বিএনপির তিন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরের ট্রাংক রোডে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি জহিরিয়া মসজিদ প্রদক্ষিণ করে ফায়ার সার্ভিসের সামনে গিয়ে সমাবেশে শেষ হয়। সেখানে ছাত্রদল সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন ও যুবদল আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার পাল্টা বক্তব্য দেন।
এর আগে ফেনী-২ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সমর্থনে এনসিপির নেতাকর্মীরা শহরের মুক্তবাজার থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি মডেল থানা প্রদক্ষিণ করে ট্রাংক রোডের খেজুর চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
একই দিনে তিন দলের কর্মসূচির কারণে ফেনী শহরজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং কোনো পক্ষকেই আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বলেন, সময় স্বল্পতার কারণে যাচাই-বাছাই শেষে কোনো কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
কসমিক ডেস্ক