গরমে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অনেক সময় এই ঘাম থেকেই তৈরি হয় অস্বস্তিকর শরীরের দুর্গন্ধ বা বডি ওডর। তবে অবাক করার বিষয় হলো—ঘাম নিজে কোনো গন্ধ তৈরি করে না; বরং ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে গন্ধ সৃষ্টি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের দুর্গন্ধ শুধু পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়—এটি অনেক সময় শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা রোগেরও সংকেত হতে পারে।
মানবদেহে প্রধানত দুই ধরনের ঘামগ্রন্থি রয়েছে—একক্রিন ও অ্যাপোক্রিন।
- একক্রিন গ্রন্থি: শরীর ঠান্ডা রাখতে পানি জাতীয় ঘাম তৈরি করে, এতে সাধারণত কোনো গন্ধ থাকে না।
- অ্যাপোক্রিন গ্রন্থি: বিশেষ করে বগলে থাকে এবং এই ঘাম ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসে দুর্গন্ধ তৈরি করে।
যাদের অতিরিক্ত ঘাম হয় বা Hyperhidrosis রয়েছে, তাদের শরীরে দুর্গন্ধ বেশি হতে পারে।
এছাড়া—
- স্থূলতা
- গরম আবহাওয়া
- মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
- অতিরিক্ত ব্যায়াম
- বংশগত কারণ
এসব কারণেও দুর্গন্ধ বাড়তে পারে।
আপনি যা খান, তার প্রভাব শরীরের গন্ধেও পড়ে। যেমন—
- পেঁয়াজ, রসুন, বাঁধাকপি, ব্রকলি
- লাল মাংস
- অতিরিক্ত ঝাল খাবার
- ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল
এসব খাবার শরীরের দুর্গন্ধ বাড়াতে পারে।
শরীরের গন্ধ কখনো কখনো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সংকেত দেয়—
- মিষ্টি/ফলের মতো গন্ধ: Diabetes-এর জটিল অবস্থা (কিটোঅ্যাসিডোসিস)
- অ্যামোনিয়া বা ব্লিচের মতো গন্ধ: Kidney Disease
- ছাঁচ বা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ: Liver Disease
- মাছের মতো গন্ধ: বিরল জেনেটিক রোগ Trimethylaminuria
- ভিনেগারের মতো টক গন্ধ: হরমোনের পরিবর্তন বা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা, মাসিক ও মেনোপজের সময় হরমোনের ওঠানামার কারণে শরীরের গন্ধ পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে মেনোপজে ‘হট ফ্ল্যাশ’-এর কারণে ঘাম ও দুর্গন্ধ বাড়ে।
- প্রতিদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা
- অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার
- বগলের লোম পরিষ্কার রাখা
- ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরা
- দুর্গন্ধ বাড়ায় এমন খাবার কম খাওয়া
- মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
গুরুতর ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা—
- বিশেষ ওষুধ
- বোটক্স ইনজেকশন
- প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার
পরামর্শ দিতে পারেন।
- বেকিং সোডা ব্যবহার
- গ্রিন টি ব্যাগ প্রয়োগ
- লেবুর রস ব্যবহার
এসব প্রাকৃতিক উপায়েও উপকার পাওয়া যেতে পারে।
- অকারণে অতিরিক্ত ঘাম হলে
- ঘুমের মধ্যেও ঘাম হলে
- দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটলে
- ত্বকে সংক্রমণ হলে
- হঠাৎ গন্ধের পরিবর্তন হলে