Tokyo-এর কিতা এলাকার তাকিনোগাওয়া দাই-সান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুক্রবার (১৯ জুন) একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্কুলের একটি সংগীত কক্ষে আগুন লাগার পর দ্রুতই পুরো ভবনে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, আগুন লাগার পর ওপরের তলার জানালা দিয়ে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়, যা মুহূর্তেই পুরো স্কুল ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৭৫টি ফায়ার ইঞ্জিন ও বিপুল সংখ্যক দমকলকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
এই অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। আহতদের বেশিরভাগই সরাসরি আগুনে দগ্ধ না হলেও ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট ও অসুস্থতায় ভুগেছেন। এছাড়া আরও চারজনকে স্কুল ভবনের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়, যারা ধোঁয়ার মধ্যে আটকে পড়েছিলেন।
দমকলকর্মীরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কিছু শিশু জানালা দিয়ে নিচের কংক্রিটের কার্নিশে উঠে আশ্রয় নিয়েছিল। পরে দমকলকর্মীরা মই ব্যবহার করে তাদের নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনেন। পুরো উদ্ধার কার্যক্রমটি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়, যাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
ঘটনার সময় স্কুলে উপস্থিত থাকা এক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জানায়, হঠাৎ করেই তারা ধোঁয়ার গন্ধ পায় এবং প্রথমে মনে করেছিল কেউ রান্না করছে। কিছুক্ষণ পরই অ্যালার্ম বা সাইরেন বেজে ওঠে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা তখন দ্রুত রুমাল বা কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে সিঁড়ি দিয়ে নেমে স্কুলের মাঠে আশ্রয় নেয়।
আরেক শিক্ষার্থী জানায়, তারা দেখতে পায় সংগীত কক্ষটি আগুনে জ্বলছে এবং একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। সেই মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত ভীতিকর, অনেক শিশু কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
দমকল বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যদিও অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি গভীরভাবে অনুসন্ধান করছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, স্কুল ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অগ্নি সতর্কীকরণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও পর্যালোচনা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
এই ঘটনাটি টোকিও শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আবারও আলোচনায় এনেছে। অভিভাবক ও স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক