ভোলার চরফ্যাশনে সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির লাশ দাফন ঘিরে চার স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পাহারায় লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়।
শনিবার (২০ জুন) উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল জলিল পণ্ডিতের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে আব্দুল জলিল পণ্ডিত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই চার স্ত্রীর সন্তানরা বাড়িতে এসে ওয়ারিশ ও সম্পত্তির হিসাব দাবি করতে শুরু করেন। এতে পারিবারিক বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।
এ সময় চতুর্থ স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তার স্মৃতি দাবি করেন, তাদের বাবার কোনো সম্পত্তি নেই এবং কেউ কোনো অংশ পাবে না। এ নিয়ে প্রথম দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এছাড়া চতুর্থ স্ত্রীর প্রাক্তন জামাতা খোকন অভিযোগ করেন, তার উপার্জিত অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার শ্বশুর ও সাবেক স্ত্রীর কাছে ছিল, যা দিয়ে জমি ও ঘর কেনা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধ ও তালাকের কারণে সম্পত্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
লাশ দাফনের সময়ও দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়। বড় তিন স্ত্রীর সন্তানদের দাবি ছিল, বাবা জীবিত অবস্থায় নিজের ঘরের সামনে দাফনের অসিয়ত করে গেছেন। অন্যদিকে চতুর্থ পক্ষের দাবি ছিল, লাশ বাড়ির বাইরে কবরস্থানে দাফন করতে হবে।
এ নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে বসতঘরের সামনেই দাফন সম্পন্ন হয়।
শশীভূষণ থানার ওসি মো. ফিরোজ আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং দাফন সম্পন্ন করা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কসমিক ডেস্ক