ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আবারও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলমান সংকট নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি কার্যকর কাঠামো নিয়ে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সমঝোতার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরান যেন ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি থাকলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে এবং কিছু বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়ে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তি সম্পন্ন হলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় নিশ্চিত করা হতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক বারবার সংঘাতময় হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে আলোচনার অগ্রগতির দাবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি আঞ্চলিক মিত্র দেশও আলোচনার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে সম্ভাব্য সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্পের সমঝোতার মন্তব্যের পর বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশার ইঙ্গিত বহন করে।
তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, আলোচনায় অগ্রগতির দাবি সত্ত্বেও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো বেশ কিছু জটিল বিষয় সমাধান প্রয়োজন। ফলে আগামী দিনগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান এবং আলোচনার গতি-প্রকৃতির ওপরই পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।
কসমিক ডেস্ক