নাইজেরিয়ায় এক বছরে ১৩ হাজারের বেশি সন্ত্রাসী নিহতের দাবি সরকারের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নাইজেরিয়ায় এক বছরে ১৩ হাজারের বেশি সন্ত্রাসী নিহতের দাবি সরকারের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 12, 2026 ইং
নাইজেরিয়ায় এক বছরে ১৩ হাজারের বেশি সন্ত্রাসী নিহতের দাবি সরকারের ছবির ক্যাপশন:

আফ্রিকার অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের দাবি করেছে দেশটির সরকার। প্রেসিডেন্ট Bola Ahmed Tinubu জানিয়েছেন, গত এক বছরে পরিচালিত সামরিক অভিযানে ১৩ হাজারের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে।

নাইজেরিয়ার ‘গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট টিনুবু এ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহী ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে সহিংসতা ও প্রাণহানির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৮১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তিনি এ অগ্রগতিকে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ সময় তিনি সরকারের পুনর্বাসনভিত্তিক কর্মসূচি ‘অপারেশন সেফ করিডোর’-এর কথাও তুলে ধরেন। এই কর্মসূচির আওতায় অস্ত্র ত্যাগ করতে আগ্রহী বিদ্রোহীদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হয় এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় এক লাখ ২৪ হাজার সশস্ত্র সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অস্ত্র সমর্পণ করেছেন।

নাইজেরিয়ায় প্রতি বছর গণতন্ত্র দিবস পালন করা হয় ১৯৯৯ সালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্মরণে। দীর্ঘ সামরিক শাসনের অবসানের পর দেশটিতে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে, যদিও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত।

বর্তমানে নাইজেরিয়া বহুমুখী নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে উগ্রপন্থি গোষ্ঠী, সশস্ত্র বিদ্রোহী এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কিছু অংশ সামরিক চাপের মুখে তাদের কার্যক্রমের পরিধি পরিবর্তন করেছে। আগে যেসব গোষ্ঠীর তৎপরতা মূলত উত্তরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল, তাদের মধ্যে কয়েকটি এখন বনাঞ্চলকে আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে নতুন এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের কারণে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের পুরোনো ঘাঁটি ছেড়ে নতুন এলাকায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা তৎপরতা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

তবে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়নের জন্য শুধু সামরিক পদক্ষেপ নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক পুনর্বাসন কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা। সরকারও নিরাপত্তা অভিযান এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ভালো কাজের স্বীকৃতিতে বিনামূল্যে ইফতার

ভালো কাজের স্বীকৃতিতে বিনামূল্যে ইফতার