দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৩০ বছরের কারাদণ্ড The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 12, 2026 ইং
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৩০ বছরের কারাদণ্ড ছবির ক্যাপশন: আদালতের রায়ে ৩০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল।

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সিউলের একটি আদালত। উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ডে ড্রোন অনুপ্রবেশের নির্দেশ দিয়ে আন্তঃকোরীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার ঘোষিত রায়ে আদালত উল্লেখ করে, ইউন সুক ইওল এমন একটি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে সামরিক আইন জারির পক্ষে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হতো।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালত অভিযোগগুলোর প্রমাণ পর্যালোচনা করে ইউনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটররা দাবি করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন যাতে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সামরিক আইন ঘোষণার যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালত রায়ে এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এবং তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে।

এটি ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে চলমান একাধিক মামলার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রায়। এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। যদিও সেই সামরিক আইন কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা বাতিল হয়ে যায়।

বর্তমানে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে সামরিক আইন জারির চেষ্টা ছাড়াও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কিত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক এসব বিচারিক প্রক্রিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সাম্প্রতিক এই রায়ের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার বিচারব্যবস্থা আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। আদালতের সিদ্ধান্ত দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তঃকোরীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এদিকে, ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলার বিচার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অবস্থান আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মামলা বিচারাধীন থাকতেই রামকান্তপুরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

মামলা বিচারাধীন থাকতেই রামকান্তপুরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ