গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় মিজানুর রহমান মিজান (৩৫) নামে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ খান সারোয়ারে আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান মিজান পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের পেশাজীবী বিভাগের বর্তমান সেক্রেটারি। এছাড়া তিনি পূর্বে পৌর জামায়াতের আমির এবং ২০১৩-১৪ সালে উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে একই ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে তৌহিদুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয় এবং পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এই মামলায় মোট দুইজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৫ মার্চ রাতে। অভিযোগ অনুযায়ী, পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি অভিযোগ নিয়ে থানায় যান। এ সময় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি ওসির ওপর চাপ প্রয়োগ করেন।
পুলিশ জানায়, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ওই নেতা ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ওসির ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করেন। এ সময় অন্য পুলিশ সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়।
এই হামলায় এক নারী কনস্টেবলসহ মোট ৯ জন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় পলাশবাড়ী থানার এএসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২ থেকে ১৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে মাহমুদুল হাসান পলাশকে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক