দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী Amir Khasru Mahmood Chowdhury এই প্রস্তাব ঘোষণা করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও Jatiya Sangsad-এ বাজেট উপস্থাপনকে ঘিরে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ ছিল ৪৮ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। সেই তুলনায় আগামী অর্থবছরে এ খাতে প্রায় ১২ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে। অর্থাৎ শতাংশের হিসাবে এটি একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, যা সরকারের অবকাঠামো উন্নয়নমুখী নীতির প্রতিফলন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দেশের সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, রেলপথ এবং অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যয় কমাতে সাহায্য করে এবং পণ্য পরিবহনকে সহজ ও দ্রুত করে তোলে। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার যেমন শক্তিশালী হয়, তেমনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বর্তমানে বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ন ও শিল্পায়নের ফলে পরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ কমানোর জন্য আধুনিক ও কার্যকর যোগাযোগ অবকাঠামো অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার সড়ক ও মহাসড়ক সম্প্রসারণ, নতুন সেতু নির্মাণ এবং রেলপথ উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো শুধু ব্যবসার জন্য নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি, গ্রামীণ অর্থনীতিকেও মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করতে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
এছাড়া সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই বরাদ্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হন। উন্নত সড়ক ও রেল নেটওয়ার্ক এসব সমস্যা কমাতে সহায়ক হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বাজেট বাস্তবায়ন সঠিকভাবে করা গেলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি রপ্তানি খাতও আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, বরাদ্দ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে এই বড় বরাদ্দ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই বিনিয়োগ দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
কসমিক ডেস্ক