ঢাকার কেরানীগঞ্জে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও মিছিল করার অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতাসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম সুমন।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় এনসিসি ব্যাংকের সামনে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হান্নান (৫৯) ও সাব্বির (৩৫)। তাদের কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ডিবির দাবি, হান্নানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
একই দিনে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার চরাইল খেলার মাঠ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মো. মাসুদ (২৭) ও আসিফ হাওলাদারকে (২২) আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে যথাক্রমে ১৮ পিস ও ১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এছাড়া দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বাঘাপুর এলাকায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে মো. শাহীন (২১) ও মো. আব্দুল আলীকে (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহীনের কাছ থেকে ২৫০ গ্রাম গাঁজা এবং আব্দুল আলীর কাছ থেকে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে চুনকুটিয়া এলাকার ঝিলমিল হাসপাতালের সামনে অভিযান চালিয়ে মো. নাসির হাওলাদার (৪৫) ও মো. কালাম খাঁকে আটক করা হয়। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০০ পিস করে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসন প্রকল্প এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল করার অভিযোগে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শুভাঢ্যা ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রিপন হোসেন (৪২) এবং কালিন্দী ইউনিয়ন যুবলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান সুজন (৪৫)।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১০ জুন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার ভিত্তিতে তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং রিমান্ডের আবেদনসহ তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কসমিক ডেস্ক