পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ Hormuz Strait-এর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন বিকল্প জ্বালানি রফতানি পথ খুঁজতে শুরু করেছে। তেল ও গ্যাস পরিবহনের এই প্রধান রুটে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় নতুন পাইপলাইন স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Financial Times-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে এবং এই রুটে চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত এক মাসে পারস্য উপসাগরে অন্তত ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়েছে, যার মধ্যে ৩২০টির বেশি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার রয়েছে। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোর রফতানি কার্যক্রম বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিকল্প হিসেবে স্থলভিত্তিক পাইপলাইনই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। যদিও এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যয়বহুল এবং রাজনৈতিকভাবে জটিল, তবুও দীর্ঘমেয়াদে এটি স্থিতিশীল সমাধান দিতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত এই পাইপলাইনটি পারস্য উপসাগর এড়িয়ে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত Yanbu Port-এ তেল পৌঁছে দেয়। এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি করা সম্ভব হয়।
Saudi Aramco-এর প্রধান আমিন নাসের জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পাইপলাইনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। সৌদি আরব এখন ভাবছে, কীভাবে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেলের আরও বড় অংশ পাইপলাইনের মাধ্যমে রফতানি করা যায়।
এজন্য বিদ্যমান পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ানো বা নতুন পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। অতীতে এ ধরনের অনেক পরিকল্পনা খরচ ও জটিলতার কারণে বাস্তবায়ন হয়নি। তবে বর্তমান সংকট সেই পরিকল্পনাগুলোকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক পাইপলাইনের সমন্বয়ে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা গেলে কোনো একটি রুট বন্ধ হলেও অন্য পথ দিয়ে রফতানি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে এই ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ সময়সাপেক্ষ এবং অত্যন্ত জটিল।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চয়তা উপসাগরীয় দেশগুলোকে নতুন করে কৌশল ভাবতে বাধ্য করেছে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি রফতানি নিরাপদ রাখতে বিকল্প পাইপলাইনই হতে পারে তাদের প্রধান ভরসা।
কসমিক ডেস্ক