কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের খরিপ-১ মৌসুমের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
এ কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার প্রায় ১ হাজার কৃষককে উফশী আউশ ধানের বীজ ও রাসায়নিক সার দেওয়া হয়, যার মূল লক্ষ্য হলো কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ কমানো।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং তাদের আর্থিক চাপ কমানো। কৃষি খাতে ধারাবাহিক সহায়তা প্রদান করা হলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিগার সুলতানা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এ প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকরা সময়মতো বীজ ও সার পাওয়ায় আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধি পাবে এবং উৎপাদন লক্ষ্য পূরণ করা সহজ হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, খরিপ-১ মৌসুমে উফশী আউশ ধানের আবাদ সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। প্রান্তিক কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থাকে আরও টেকসই করা হচ্ছে।
এই প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় দাউদকান্দি উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। ইউনিয়নগুলো হলো—মোহাম্মদপুর, বিটেশ্বর, মারুকা, মালিগাঁও, জিংলাতলী, পাঁচগাছিয়া, ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ এবং গোয়ালমারি। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৩৫০ জন কৃষক এবং বিটেশ্বর ও মারুকা ইউনিয়নের ২৫০ জন করে কৃষক সহায়তা পেয়েছেন। অন্যান্য ইউনিয়নের কৃষকরাও নির্ধারিত সংখ্যায় এই সুবিধার আওতায় এসেছে।
সরকারি এই উদ্যোগের ফলে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, বিনামূল্যে বীজ ও সার পাওয়ায় তারা এবার আরও বেশি জমিতে আউশ ধানের আবাদ করতে পারবেন। এতে উৎপাদন বাড়বে এবং বাজারে ধানের সরবরাহও বৃদ্ধি পাবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত প্রণোদনা কার্যক্রম চালু থাকলে কৃষি খাতে স্থিতিশীলতা আসবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য এই ধরনের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা উৎপাদন খরচের চাপে অনেক সময় চাষাবাদে পিছিয়ে পড়েন।
কুমিল্লা অঞ্চলে এ ধরনের কৃষি সহায়তা কার্যক্রম স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কৃষকরা উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হচ্ছেন এবং গ্রামীণ পর্যায়ে কৃষি কার্যক্রম আরও গতিশীল হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, দাউদকান্দির এই প্রণোদনা কর্মসূচি কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
কসমিক ডেস্ক