২০২৬ বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের স্বপ্ন ভেঙে গেছে সোমালিয়ার আন্তর্জাতিক রেফারি Omar Artan-এর। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় তিনি বিশ্বকাপের রেফারিং প্যানেল থেকে বাদ পড়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানা গেছে।
৩৪ বছর বয়সী ওমর আরতান ছিলেন ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত ৫২ জন রেফারির একজন। ইতিহাসে প্রথম সোমালিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় রেফারিদের প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দিতে গিয়ে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আটকে দেওয়া হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের সময় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্দেহভাজন সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বা সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পেয়েছে বলে দাবি করে। তবে এই অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
এরপরই তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করা হয় এবং প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তুরস্ক হয়ে সোমালিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়। বিষয়টি নিয়ে আরতান দাবি করেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে আল-শাবাব নামের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
দেশে ফিরে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে তাকে সরকারি কর্মকর্তা ও ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এই ঘটনা তার জন্য হতাশার হলেও তিনি ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং ২০৩০ বিশ্বকাপে আবার সুযোগ পাওয়ার আশা করছেন।
বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজনে দায়িত্ব হারানো তার ক্যারিয়ারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেফারিং প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সোমালিয়ার জন্যও এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, যা ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
কসমিক ডেস্ক