দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজনকে ঘিরে মাঠের বাইরেও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আয়োজক দেশগুলো। এর অংশ হিসেবে যৌনবাহিত সংক্রমণ (STI) প্রতিরোধে বড় ধরনের স্বাস্থ্যসচেতনতা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে মেক্সিকো ও কানাডা।
বিশ্বকাপ চলাকালে বিপুল সংখ্যক বিদেশি দর্শনার্থীর আগমনকে কেন্দ্র করে মেক্সিকো সরকার ব্যাপক জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দর, স্টেডিয়াম, বার, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ কনডম বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। এর লক্ষ্য হলো সিফিলিস, গনোরিয়া এবং এইচআইভির মতো যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি কমানো।
মেক্সিকোর তিনটি ভেন্যু—মেক্সিকো সিটি, জালিস্কো ও মনতেরেতে—৩৯ দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ আরও আলাদাভাবে ৪০ থেকে ৫০ লাখ কনডম বিতরণের পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত আরও প্রায় ২০ লাখ কনডম সরবরাহ করবে।
মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্বকাপ স্বাস্থ্য পরিচালনা কমিটির সদস্য রোকসানা ত্রেহো জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ শুধুমাত্র কনডম বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে নিরাপদ যৌন আচরণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন করা।
তিনি বলেন, বিমানবন্দর ও প্রবেশপথগুলোতে বিশেষ বুথ স্থাপন করা হবে, যেখানে দর্শনার্থীরা কনডমের পাশাপাশি সচেতনতামূলক লিফলেটও পাবেন। একইভাবে নাইটক্লাব, বার ও রেস্তোরাঁসহ দর্শনার্থীদের ভিড় থাকা স্থানেও এই কার্যক্রম চলবে।
এছাড়া মেক্সিকো সিটির জোকালো চত্বরে আয়োজিত ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যালেও বিনামূল্যে কনডম বিতরণ করা হবে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে বা কনডম ছিঁড়ে গেলে দর্শনার্থীরা দ্রুত চিকিৎসা নিতে পারবেন।
অন্যদিকে কানাডাও একই ধরনের স্বাস্থ্য উদ্যোগ নিয়েছে। টরন্টো পাবলিক হেলথ তাদের ‘কনডমটু’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বকাপ থিমভিত্তিক বিশেষ কনডম ও যৌনস্বাস্থ্য সামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করছে। এসব সামগ্রী টরন্টোর চারটি যৌনস্বাস্থ্য ক্লিনিকে পাওয়া যাচ্ছে।
কানাডার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো নিরাপদ যৌন আচরণে উৎসাহ দেওয়া, সামাজিক সংকোচ দূর করা এবং যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তাদের মতে, কনডম ব্যবহারের মাধ্যমে যৌনবাহিত রোগ, এইচআইভি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
বিশ্বকাপকে ঘিরে এই উদ্যোগকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বিশাল জনসমাগমের সময় এমন কর্মসূচি সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক