শিশুর মৃত্যুশয্যায় সবরের মহিমা: ইসলামি শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

শিশুর মৃত্যুশয্যায় সবরের মহিমা: ইসলামি শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 10, 2026 ইং
শিশুর মৃত্যুশয্যায় সবরের মহিমা: ইসলামি শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা ছবির ক্যাপশন:

ইসলামে সবর বা ধৈর্য ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ, যা মুমিনের ঈমানকে পরিপূর্ণ করে। জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোতে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধারণ করাই প্রকৃত মুমিনের পরিচয়। এমনই এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায় Prophet Muhammad (সা.)-এর জীবনীতে, যা আমাদের জন্য এক অনন্য শিক্ষা।

হাদিসে বর্ণিত আছে, Usama ibn Zayd (রা.) বলেন—একবার মহানবী (সা.)-এর এক কন্যা তাঁর কাছে সংবাদ পাঠান যে, তাঁর সন্তানের অবস্থা খুবই গুরুতর। তিনি অনুরোধ করেন, যেন মহানবী (সা.) সেখানে উপস্থিত হন। উত্তরে মহানবী (সা.) সালাম পাঠিয়ে বলেন, আল্লাহ যা নিয়ে নেন তা তাঁরই এবং যা দেন তাও তাঁরই। প্রতিটি জিনিসের জন্য আল্লাহ নির্ধারিত সময় রেখেছেন। তাই তিনি যেন ধৈর্য ধারণ করেন এবং সওয়াবের আশা রাখেন।

তবে পরে মহানবী (সা.)-এর কন্যা পুনরায় অনুরোধ করলে তিনি সেখানে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন বিশিষ্ট সাহাবি, যেমন Sa'd ibn Ubadah (রা.), Mu'adh ibn Jabal (রা.), Ubayy ibn Ka'b (Companion of the Prophet) এবং Zayd ibn Thabit (রা.)।

সেখানে পৌঁছে শিশুটিকে মহানবী (সা.)-এর কোলে দেওয়া হয়। শিশুটির জীবন তখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই দৃশ্য দেখে মহানবী (সা.)-এর চোখে অশ্রু চলে আসে। তখন Sa'd ibn Ubadah (রা.) জিজ্ঞেস করেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কাঁদছেন কেন?’ উত্তরে মহানবী (সা.) বলেন, ‘এটা হলো দয়া, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের হৃদয়ে দান করেছেন।’

এই ঘটনা থেকে মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা পাওয়া যায়। প্রথমত, দুনিয়ার সব কিছুই আল্লাহর মালিকানাধীন। সন্তান, সম্পদ ও জীবন—সবই আল্লাহর আমানত। তাই কোনো কিছু হারালে অতিরিক্ত ভেঙে পড়া উচিত নয়।

দ্বিতীয়ত, বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ করা মুমিনের অন্যতম গুণ। কষ্টের সময় সবর করলে আল্লাহ বিশেষ প্রতিদান দেন। আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকাও ঈমানের অংশ।

তৃতীয়ত, তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস রাখা অপরিহার্য। মৃত্যু, জীবন ও রিজিক—সবকিছুই আল্লাহ পূর্বনির্ধারিত করেছেন। নির্ধারিত সময়ের এক মুহূর্ত আগে বা পরে কিছুই ঘটে না। এই বিশ্বাস মানুষের অন্তরে প্রশান্তি এনে দেয়।

চতুর্থত, অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া সুন্নাহ। বিপদগ্রস্ত আত্মীয়-স্বজনের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে।

সবশেষে, প্রিয়জনের কষ্ট বা মৃত্যুতে চোখের পানি আসা কোনো গুনাহ নয়। বরং এটি মানুষের অন্তরের কোমলতা ও দয়ার প্রকাশ। ইসলাম মানুষকে কঠোর হতে নয়, বরং মানবিক ও সহানুভূতিশীল হতে শিক্ষা দেয়।

এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবনের প্রতিটি দুঃখ-কষ্টে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং ধৈর্য ধারণ করাই একজন প্রকৃত মুমিনের পথ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আত্মহত্যা বাড়ছে ইসরায়েলি সেনাদের, পিএসটিডি সংকট গভীর হচ্ছে

আত্মহত্যা বাড়ছে ইসরায়েলি সেনাদের, পিএসটিডি সংকট গভীর হচ্ছে