পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। তিনি বাম ও অতিবাম শক্তিগুলোকে নিয়ে একটি যৌথ মঞ্চ গঠনের প্রস্তাব দেন, যেখানে মূল লক্ষ্য থাকবে কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপির প্রভাব রোধ করা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের আদলে রাজ্যেও বিরোধী দলগুলোকে একত্রিত হয়ে কাজ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করাই জরুরি। এই প্রেক্ষিতে তিনি বামপন্থী দলগুলোকেও সহযোগিতার আহ্বান জানান।
তবে এই প্রস্তাব একেবারেই গ্রহণ করেনি ভারতের অন্যতম প্রধান বাম দল Communist Party of India (Marxist)। দলটির রাজ্য সম্পাদক Mohammed Salim স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো ধরনের জোট বা রাজনৈতিক বোঝাপড়া তারা করবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় সেলিম বলেন, “কোনো অপরাধী, দুর্নীতিগ্রস্ত বা তোলাবাজ শক্তির সঙ্গে আমরা একসঙ্গে চলতে পারি না।” তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, সিপিএমের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার—“না। একদম না।” এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, মমতার প্রস্তাবের প্রতি দলটির কোনো নমনীয়তা নেই।
সিপিএমের তরুণ প্রজন্মের নেতারাও এই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য আদর্শিক অবস্থান বদলানো যাবে না। তারা মনে করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অতীতে যে রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, তা এখনো অপরিবর্তিত থাকা উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের জোট রাজনীতি নতুন নয়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে কংগ্রেস, বাম এবং তৃণমূল বিভিন্ন সমীকরণে এসেছে ও গেছে। তবে এবার পরিস্থিতি আরও জটিল, কারণ বিজেপির উত্থান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে Suvendu Adhikari-এর নামও আলোচনায় রয়েছে, যিনি রাজ্যের শাসক ও বিরোধী রাজনীতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
তবে সিপিএমের অবস্থান অনুযায়ী, তারা একা লড়াই চালিয়ে যাবে এবং কোনো “সুযোগসন্ধানী জোট” গঠনে আগ্রহী নয়। দলটির দাবি, আদর্শ ও নীতির ভিত্তিতেই তারা রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে, কোনো সাময়িক সমীকরণের ভিত্তিতে নয়।
সব মিলিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বান এবং সিপিএমের প্রত্যাখ্যান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আগামী দিনে এই দূরত্ব আরও বাড়তে পারে, যা রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলবে।
কসমিক ডেস্ক