মানবজাতির মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত করেছে NASA পরিচালিত Artemis II মিশন। এই মিশনের চার নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথ ত্যাগ করে চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন। তাদের বহনকারী ওরিয়ন মহাকাশযানটি প্রধান ইঞ্জিন চালিয়ে নির্ধারিত পথে অগ্রসর হয়েছে।
মহাকাশযানটির ইঞ্জিন প্রায় ৫ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড ধরে চালানো হয়, যার মাধ্যমে এটি চাঁদের কক্ষপথে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গতিপথে প্রবেশ করে। এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপটিকে বলা হয় ট্রান্সলুনার ইনজেকশন (টিএলআই)। মিশনের দায়িত্বে থাকা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
মিশনে অংশ নেওয়া কানাডার নভোচারী Jeremy Hansen মহাকাশযান থেকে জানান, তারা এখন চাঁদের পথে অগ্রসর হচ্ছেন এবং সবাই সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় আছেন। এই যাত্রা শুধু একটি বৈজ্ঞানিক অভিযান নয়, বরং মানবজাতির মহাকাশ অভিযানে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মিশনের মাধ্যমে নভোচারীরা চাঁদের দূরবর্তী অংশ ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে পা রাখল। লাইভ সম্প্রচারে দেখা গেছে, মহাকাশযানটি যত দূরে যাচ্ছে, পৃথিবী ততই ছোট হয়ে একটি নীল-সাদা গোলকের মতো দেখা দিচ্ছে।
চাঁদের পথে যাত্রার আগে নভোচারীরা প্রায় একদিন ‘হাই আর্থ অরবিট’-এ অবস্থান করেন। এই সময়ে ওরিয়নের ইঞ্জিন, নেভিগেশন এবং জীবনধারণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। সব কিছু সন্তোষজনক হওয়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে শুরু করা হয় টিএলআই ধাপ।
ওরিয়নের সার্ভিস মডিউলে থাকা প্রধান ইঞ্জিন দীর্ঘ সময় চালানোর ফলে মহাকাশযানের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে এটি এমন একটি কক্ষপথে প্রবেশ করে, যেখানে মানুষ আগে কখনও যায়নি। নভোচারীরা চাঁদের থেকেও প্রায় ৪,৭০০ মাইল বা ৭,৬০০ কিলোমিটার বেশি দূরত্ব অতিক্রম করবেন বলে জানা গেছে।
নাসা জানিয়েছে, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে এই মিশনটি ১৯৭০ সালের Apollo 13 মিশনের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে টিএলআই ধাপ অতিক্রম করার পরও জরুরি পরিস্থিতিতে নভোচারীদের ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রথম ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে দ্রুত ফিরে আসার বিকল্প পথ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মিশনের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নভোচারীরা এক অনন্য মহাজাগতিক দৃশ্যের মুখোমুখি হবেন। চাঁদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তারা একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করবেন, যেখানে চাঁদ সূর্যের সামনে চলে এসে আলো আংশিকভাবে ঢেকে দেবে এবং চারপাশে আলোর বলয় সৃষ্টি হবে।
মহাকাশ গবেষণায় ব্যবহৃত ‘টিএলআই’ শব্দটি জটিল হলেও এই মিশনে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এই ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় মানুষ আবারও চাঁদের মাটিতে পা রাখার স্বপ্নের আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছেছে।
কসমিক ডেস্ক