উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর বেসিন এলাকায় পাঁচটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। শনিবার (৯ মে) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার অন্তর্গত পাঁচটি নদীর ছয়টি নির্দিষ্ট পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও কিছু কিছু এলাকায় পানির স্তর ধীরগতিতে কমতে শুরু করেছে, তবুও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
পাউবো’র তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ জেলার নলজুর নদীর জগন্নাথপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। একই জেলার হাওর অঞ্চলের অন্যান্য জলধারাগুলোতেও পানির চাপ অব্যাহত আছে।
নেত্রকোনা জেলায় ভুগাই–কংস নদীর জারিয়াজঞ্জাইল পয়েন্ট এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া মগরা নদীর নেত্রকোনা সদর ও আটপাড়া পয়েন্টেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে।
হবিগঞ্জ জেলার সুতাং নদীর সুতাং–রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এই এলাকাগুলোতে স্থানীয় জনজীবন কিছুটা ব্যাহত হলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানায়, সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে নদীগুলোর পানির সমতল বর্তমানে ঘণ্টায় শূন্য থেকে এক সেন্টিমিটার হারে ধীরে ধীরে কমছে। এটি একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হলেও দ্রুত উন্নতির আশা এখনো করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদীর পানি কমতে থাকলেও হাওর অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলগুলোতে এখনো জলাবদ্ধতার ঝুঁকি রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাধারণত এই সময় হাওর অঞ্চলে পানির চাপ বাড়ে, যা ফসল ও অবকাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলে।
পাউবো জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নদীর পানি প্রবাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কিছু এলাকায় ঘরবাড়ির আশপাশে পানি উঠে গেলেও এখনো বড় ধরনের দুর্যোগের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে তারা দ্রুত পানি কমে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
সার্বিকভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক