ভুয়া লাইসেন্স দিয়ে ১৭ বছরে ৯০০ ফ্লাইট চালালেন পাইলট The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ভুয়া লাইসেন্স দিয়ে ১৭ বছরে ৯০০ ফ্লাইট চালালেন পাইলট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 10, 2026 ইং
ভুয়া লাইসেন্স দিয়ে ১৭ বছরে ৯০০ ফ্লাইট চালালেন পাইলট ছবির ক্যাপশন: ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করে দীর্ঘদিন বিমান চালানোর অভিযোগে সাবেক এয়ার কানাডা পাইলট গ্রেপ্তার

কানাডার জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার কানাডার এক সাবেক পাইলটের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করে বিমান চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি কানাডার বিমান চলাচল ইতিহাসে অন্যতম বড় প্রতারণার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অভিযুক্ত পাইলট জেফরি ওয়ালকে গত মঙ্গলবার (২ জুন) কানাডা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থার দাবি, তিনি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা বাধ্যতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৯০০টিরও বেশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন।

পিল রিজিওনাল পুলিশের ডেপুটি চিফ মিলিনোভিচ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই ঘটনার বিবরণ যেন কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো। তার ভাষায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায় ১৭ বছর ধরে বোয়িং ৭৬৭, ৭৭৭ এবং ৭৮৭ উড়োজাহাজ পরিচালনা করেছেন এবং এই সময়ে প্রায় ৩ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বেতন নিয়েছেন।

তদন্ত অনুযায়ী, জেফরি ওয়ালের কাছে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স ছিল, তবে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স (ATPL) তার ছিল না। অথচ ২০০৯ সালে ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হওয়ার পর থেকেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করেন।

ডেপুটি চিফ মিলিনোভিচ বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, এটি এমন একজন ডাক্তারের মতো যার সাধারণ চিকিৎসার লাইসেন্স আছে, কিন্তু তিনি ব্রেন সার্জারি করছেন। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় উচ্চতর যোগ্যতা ছাড়াই তিনি অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।

২০২৫ সালে নিয়মিত নথি যাচাইয়ের সময় তার লাইসেন্সে গুরুতর অসংগতি ধরা পড়ে। এরপর এয়ার কানাডা বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানায়। পরবর্তীতে “প্রজেক্ট ইকারাস” নামে একটি বিশেষ তদন্ত শুরু হয়, যা জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফৌজদারি পর্যায়ে পৌঁছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্ত শুরুর আগেই ২০২৫ সালে জেফরি ওয়াল অবসর গ্রহণ করেন। তবে ততক্ষণে তার দীর্ঘদিনের কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ ও প্রমাণ জমা হয়ে যায়।

এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের আপস হয়নি। প্রতিটি পাইলটকে প্রতি ছয় মাসে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ এবং প্রতি বছর ফ্লাইট চেকের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তারপরও তারা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং পূর্ণ তদন্তে সহযোগিতা করছে।

অন্যদিকে কানাডার বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা “ট্রান্সপোর্ট কানাডা” ইতোমধ্যে অভিযুক্ত পাইলটকে জরিমানা করেছে। তার বিরুদ্ধে জাল নথি ব্যবহার, প্রতারণা এবং নকল সিল ব্যবহারের অভিযোগে মোট সাতটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আগামী ২৯ জুন তাকে আদালতে হাজির করা হবে। তবে এখনো পর্যন্ত তার পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এই ঘটনা বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভেতরের দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে এমন একটি গুরুতর অনিয়ম কীভাবে ধরা পড়েনি, তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের পর্যালোচনার দাবি রাখে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে ধুনটে কৃষকের বসতঘর পুড়ে ছাই

বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে ধুনটে কৃষকের বসতঘর পুড়ে ছাই