দুই সপ্তাহের অনিশ্চয়তা ও জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে সিলেটে শুরু হচ্ছে আট দিনব্যাপী বইমেলা। শুরুতে অনুমতি পাওয়া গেলেও পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বলে মেলা বাতিল করা হয়েছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তে আবারও অনুমতি পাওয়ায় রবিবার (১০ মে) থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বইমেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
প্রকাশক পরিষদ সিলেট আয়োজিত এই বইমেলার উদ্বোধন হবে রবিবার বিকেল ৩টায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, মেলা সফলভাবে আয়োজনের জন্য সিলেট মহানগর পুলিশ, সিলেট সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদ সহযোগিতা করছে। ইতোমধ্যে মেলা প্রাঙ্গণে স্টল নির্মাণ, মঞ্চ প্রস্তুত এবং অবকাঠামো তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রকাশনা পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও নাগরি প্রকাশনের প্রকাশক সুফি সুফিয়ান জানান, শুরুতে ২৪ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বইমেলা আয়োজনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একদিন আগে পুলিশ প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ দেখিয়ে অনুমতি বাতিল করে দেয়। এতে আয়োজন স্থগিত হয়ে যায়।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন পুনরায় তদন্ত করে এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা না পাওয়ায় বইমেলার অনুমতি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে নতুন করে ১০ মে থেকে ১৮ মে পর্যন্ত মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে আবার মেলা আয়োজন করতে হচ্ছে। তাই কিছুটা প্রস্তুতিতে চাপ রয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি সুন্দরভাবে মেলা শুরু করতে। কিছু প্রকাশনা সংস্থা হয়তো প্রথম দিনে অংশ নিতে পারবে না, তবে পরদিন থেকে সবাই যুক্ত হবে।”
এর আগে একই আয়োজন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তখনও মব আতঙ্কের কথা বলে অনুমতি বাতিল করা হয়েছিল। সেই ঘটনাও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতির পর পুনরায় অনুমতি দেওয়া হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
স্থানীয় বইপ্রেমী ও সাহিত্য অনুরাগীরা বলছেন, বইমেলা কেবল একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, এটি সাংস্কৃতিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই বারবার অনুমতি বাতিল ও অনিশ্চয়তা সৃজনশীল পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তবে শেষ পর্যন্ত মেলা শুরু হতে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকে। আয়োজকরা আশা করছেন, আট দিনব্যাপী এই বইমেলা সিলেটের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে।
মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রকাশনী অংশ নেবে এবং বইপ্রেমীদের জন্য নতুন বই, সাহিত্য আলোচনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই বইমেলা তরুণ প্রজন্মকে বই পড়ার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর সিলেটে বইমেলা আবারও শুরু হতে যাচ্ছে, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চায় একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক