লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় দুস্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণের টিন ও অনুদানের টাকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার পর বিএনপির এক নেতাসহ চারজন সুবিধাভোগী সেই সহায়তা ফেরত দিয়েছেন।
ত্রাণ সহায়তা গ্রহণকারী ব্যক্তিরা হলেন ভাদাই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দধি প্রসাদ বর্মন, একই এলাকার শামসুল হক, গোলাপী রানী ও শংকর কুমার রায়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তারা আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও দুস্থদের জন্য বরাদ্দ সহায়তা গ্রহণ করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার হিসেবে তারা আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে পরিবারপ্রতি এক বান্ডিল ঢেউটিন এবং তিন হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়।
তবে সহায়তা পাওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে দাবি করেন, সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলো প্রকৃত অর্থে দরিদ্র নয় এবং তাদের আর্থিক অবস্থা তুলনামূলক ভালো। এরপর বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় আসে এবং প্রশাসনের নজরে পড়ে।
সমালোচনা বাড়তে থাকলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। পরে গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চারজনই ত্রাণের টিন ও অনুদানের টাকা ফেরত দেন।
বিএনপি নেতা দধি প্রসাদ বর্মন জানান, শিলাবৃষ্টিতে তার টিনের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি আবেদন করেছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা পাওয়ার পর পরিস্থিতি বিবেচনায় সেটি ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে শংকর কুমার রায় বলেন, মানুষের আর্থিক অবস্থা সব সময় একই রকম থাকে না। তিনি দাবি করেন, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেয়েই সহায়তা নিয়েছিলেন। পরে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশে তা ফেরত দিয়েছেন।
গোলাপী রানীর স্বামী গোবিন্দ রায়ও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আবেদন করার পর নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দ পেয়েছিলেন। তবে সামাজিক সমালোচনার কারণে পরে টিন ও অনুদানের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাইরে থেকে মানুষ যা দেখে বাস্তব অবস্থা সবসময় তা নয়।
এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, সুবিধাভোগীরা ভুল স্বীকার করে সহায়তা ফেরত দিয়েছেন। প্রশাসন পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদার জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও দুস্থ পরিবার যেন অগ্রাধিকার পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে।
স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে এখন যেকোনো বিতর্কিত বিষয় দ্রুত সামনে চলে আসে এবং প্রশাসনও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, ত্রাণ বিতরণে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত অসহায় মানুষই সরকারি সহায়তা পান।
সব মিলিয়ে আদিতমারীর এই ঘটনা ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও সঠিক যাচাই নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতে এমন বিতর্ক এড়াতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কসমিক ডেস্ক