লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় নাজমুল ইসলাম মোহন নামে এক কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের লক্ষ্মীধরপাড়ার উদয়পুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।
শনিবার দুপুরে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আটক নাজমুল ইসলাম মোহন উদয়পুর এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদ না থাকলেও তিনি ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে রামগঞ্জ-চাটখিল সীমান্তবর্তী আঞ্চলিক মহাসড়কে কয়েকজন নেতাকর্মী একটি মিছিল বের করেন। মিছিলে বহন করা ব্যানারে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি জানানো হয়। ব্যানারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক নেতার নামও উল্লেখ ছিল বলে জানা গেছে।
মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে দেখা যায়। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা স্থানীয় সাংবাদিকদের হাতেও পৌঁছে। ভিডিওতে ১৫ থেকে ২০ জনের মতো নেতাকর্মীকে মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে বলে জানা যায়।
ভিডিও এবং স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। পরে রাতে মোহনকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মিছিলের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আরও কিছু মামলার তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “ছাত্রলীগের একজন কর্মীকে আটক করা হয়েছে। শুধু মিছিল নয়, তার বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ রয়েছে। আদালতে সোপর্দ করার সময় বিস্তারিত জানানো হবে।”
ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে প্রকাশ্যে মিছিল বের হওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে এ ধরনের ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় প্রশাসনও তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে ভিডিও ফুটেজ বা অনলাইন কনটেন্ট এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে।
সব মিলিয়ে রামগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল এবং পরবর্তী গ্রেপ্তারের ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক তৎপরতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এখন তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার দিকেই নজর সবার।
কসমিক ডেস্ক