বরিশালে স্কুলছাত্র নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চরম উদ্বেগে রয়েছে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সৌরভ দাস-এর খোঁজ তিন দিনেও মেলেনি।
সৌরভ বরিশাল কালেক্টরেট স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত শনিবার (২ মে) নগরীর ভাটিখানা এলাকা থেকে সে নিখোঁজ হয় বলে জানিয়েছে পরিবার।
তার মা মিতু রানী জানান, খিচুড়ি কেনার জন্য বিকাশ থেকে টাকা তুলতে মায়ের স্মার্টফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় সৌরভ। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সে আর বাসায় ফেরেনি। এতে পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান।
পরবর্তীতে ভাটিখানা প্রাইমারি স্কুল মাঠ থেকে এক ব্যক্তি সৌরভের বাটন ফোনটি কুড়িয়ে পেয়ে ফেরত দেন। কিছু সময় পর একই এলাকা থেকে তার মায়ের স্মার্টফোন উদ্ধার করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।
পরিবারের দাবি, বিকাশ লেনদেনে কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫০০ টাকার পরিবর্তে সৌরভ বিকাশ থেকে ৮ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করে, যা পরিবারের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।
এক দোকানদারের বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুটির সঙ্গে অন্য কেউ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সৌরভের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “যত টাকা লাগে আমি দিতে রাজি, শুধু আমার ছেলেকে ফেরত চাই।” তিনি আরও বলেন, “আমি ফোন হাতে বসে থাকি, কিন্তু কোনো ফোন আসে না। কেউ আমার ছেলেকে কী করেছে আমি জানি না।”
তিনি দাবি করেন, তার ছেলে খুবই সহজ-সরল স্বভাবের ছিল এবং যেখানে থেকে রিকশায় উঠেছে, সেখানে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। তার ধারণা, কেউ তাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিয়ে গেছে।
এদিকে সিসিটিভি ফুটেজে সৌরভকে একাই একটি রিকশায় করে অন্যদিকে যেতে দেখা গেছে। সেই রিকশাচালককে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন জানান, নিখোঁজ সৌরভকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ঘটনাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সব সূত্র অনুসরণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, শিশু নিখোঁজের এই ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, তিন দিন পার হলেও সৌরভের খোঁজ না পাওয়ায় পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে এবং খুব শিগগিরই অগ্রগতি আসতে পারে বলে তারা আশাবাদী।
কসমিক ডেস্ক