বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একজন নৌবাহিনীর কর্মী। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
শনিবার (২ মে) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার রাজপাট এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি মোটরসাইকেল ও একটি ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
নিহত ব্যক্তির নাম নাজমুল হাসান (৫৫)। তিনি কোটালীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং এ এস এম আব্দুল লতিফের ছেলে। জানা গেছে, তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনী-এর একজন স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ভ্যানের দুই আরোহী—রেজিনা বেগম (৩০) এবং রফিক (৭৫)। রেজিনা বেগম রাজপাট এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত। অপরদিকে রফিক নাশুখালী এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ভ্যানচালক।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে। তাদের গুরুতর অবস্থায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজমুল হাসান মারা যান।
চিকিৎসকদের মতে, আহত রেজিনা বেগম ও রফিকের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। বিশেষ করে রেজিনা বেগমের শারীরিক অবস্থা বেশি গুরুতর বলে জানা গেছে। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে মোল্লাহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ওসি আরও জানান, ভ্যানচালক এবং ভ্যানের যাত্রী গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন নারীর অবস্থা বিশেষভাবে সংকটাপন্ন।
এই দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়ায় এখানে যানবাহনের চাপ সবসময় বেশি থাকে। ফলে অসতর্কতা বা সামান্য ভুলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
স্থানীয়রা বলছেন, সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চালকদের আরও সচেতন হতে হবে, যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
সব মিলিয়ে, মোল্লাহাটের এই দুর্ঘটনা একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে এনেছে এবং আহতদের জীবন-মৃত্যুর লড়াই চলমান। দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন স্থানীয়রা, পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সবাই।
কসমিক ডেস্ক