দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও নানা ধরনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ব্যাখ্যামূলক বক্তব্য দিয়েছেন মারকাযু শাহাবুদ্দিন আল ইসলামি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম ও ইসলামি বক্তা Rafiqul Islam Madani। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় প্রেমের সম্পর্কের কারণে চাপে পড়ে তিনি বিয়ে করেছেন—এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যাকে তিনি বিয়ে করেছেন তাকে বিয়ের দিন দেখার আগ পর্যন্ত কখনো দেখেননি কিংবা কথাও বলেননি। টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের দাবিকেও তিনি অস্বীকার করেন।
দ্বিতীয় বিয়ের সময় নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে তিনি জানান, একটি বিবাহ মধ্যস্থতাকারী প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তার বিয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কয়েক মাস আগে সেখানে তার ফরম পূরণ করা হয়েছিল এবং পরে উভয় পক্ষ সম্মত হলে বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিষয়টি আগেই তার প্রথম স্ত্রীকে জানানো হয়েছিল।
প্রথম স্ত্রীর গর্ভাবস্থার সময় বিয়ে করার কারণে মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সমালোচনারও জবাব দেন তিনি। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, স্ত্রীর চিকিৎসা ও দেখভালের দায়িত্ব তিনি যথাযথভাবে পালন করেছেন এবং হাসপাতালেও সার্বক্ষণিক পাশে ছিলেন। তার দাবি, সংসারজীবনে স্ত্রীর প্রতি অবহেলার কোনো অভিযোগ প্রমাণ করা গেলে তিনি যেকোনো শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, তার দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্তে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা কষ্ট পেলেও তারা কখনো তার আচরণ বা দায়িত্ববোধ নিয়ে অভিযোগ করেননি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, একাধিক বিয়ের বিষয়ে সমাজে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে।
একাধিক বিয়ে নিয়ে পরিচালিত মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব প্ল্যাটফর্ম স্বেচ্ছায় আগ্রহী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করে থাকে এবং কাউকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয় না। তার মতে, বিধবা ও অসহায় নারীদের জন্যও এ ধরনের উদ্যোগ সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি উল্লেখ করেন, একাধিক বিয়াকে ঘিরে সমাজে ভিন্নমত থাকলেও বিষয়টি ধর্মীয় বিধান ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের আলোকে বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে গঠনমূলক সমালোচনাকে তিনি গ্রহণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন।
কসমিক ডেস্ক