চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে কেন্দ্রগুলোর জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে Dhaka Secondary and Higher Secondary Education Board।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রগুলোর কাছে সিসি ক্যামেরা সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রশ্নপত্র গ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য দ্রুত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে শিক্ষা বোর্ড।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে স্থাপিত সিসি টিভি ক্যামেরার আইডি ও পাসওয়ার্ড বোর্ডে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র গ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের নাম, ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বরও জমা দিতে হবে।
এই তথ্যগুলো নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানা controller@dhakaeducationboard.gov.bd-এ পাঠাতে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, রবিবার অফিস সময়ের মধ্যেই এসব তথ্য পাঠানো বাধ্যতামূলক।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষার সময় কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
প্রশ্নপত্র পরিবহন ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে করে কোনো অনিয়ম ঘটলে দ্রুত দায়ীদের শনাক্ত করা সহজ হবে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাবলিক পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকলের অভিযোগ ওঠায় এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
এদিকে শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২১ এপ্রিল। প্রথম দিনে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
লিখিত পরীক্ষা চলবে ২০ মে পর্যন্ত। এরপর ৭ জুন থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ১৪ জুন পর্যন্ত চলবে।
পরীক্ষা ঘিরে ইতোমধ্যে কেন্দ্রগুলোতে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সব মিলিয়ে, এসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সিসি ক্যামেরা ও প্রশ্নপত্র নিরাপত্তায় এই নতুন নির্দেশনা পরীক্ষা ব্যবস্থাপনাকে আরও কঠোর ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।