Narayanganj-এর ফতুল্লা এলাকায় পুলিশের বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ রনি (৪০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোরে ফতুল্লা থানাধীন পশ্চিম দেওভোগের হাশেমবাগ তসলিমপট্টি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার রনি উপজেলার কাশিপুর এলাকার কালু মিয়ার ছেলে। তিনি ফতুল্লা মডেল থানার একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলেও জানা গেছে।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিম দেওভোগ এলাকার গিয়াস উদ্দিন উকিলের বাড়ির সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবস্থানকালে রনিকে আটক করা হয়।
অভিযানের সময় তার হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১৫টি সাদা স্টিলের তৈরি তলোয়ার, চারটি কাঠের তলোয়ার, একটি চাকু, একটি স্টিলের এসএস কুড়াল এবং একটি এসএস পাইপ।
পুলিশের ধারণা, এসব অস্ত্র কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) Tarek Al Mehdi। তিনি জানান, গ্রেপ্তার আসামিসহ পলাতক অন্যান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই ফতুল্লা এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অস্ত্রধারী ও অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অনেকেই মনে করছেন, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের উপস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তবে পুলিশের দ্রুত অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় অস্ত্রের অবাধ বিস্তার বিভিন্ন সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার রনিকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর উৎস এবং এগুলোর সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পরিচালিত এই অভিযানকে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কসমিক ডেস্ক