ইসলামে মসজিদকে অত্যন্ত পবিত্র ও সম্মানিত স্থান হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি শুধু নামাজের জায়গা নয়, বরং ইবাদত, শিক্ষা ও মুসলিম সমাজের ঐক্যের কেন্দ্র। তাই মসজিদের ভেতরের প্রতিটি সম্পদ—কার্পেট, ফ্যান, বিদ্যুৎ বা পানি—সবই আল্লাহর ঘরের জন্য ওয়াকফকৃত আমানত হিসেবে বিবেচিত।
বর্তমানে অনেক এলাকায় মসজিদের ট্যাংকের পানি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যায়। কেউ পান করার জন্য, আবার কেউ রান্না বা গৃহস্থালির কাজে এটি ব্যবহার করেন। এ বিষয়ে শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ফিকহবিদরা স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী, মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত সম্পদ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা বৈধ নয়। অর্থাৎ, মসজিদের পানি মূলত মুসল্লিদের অজু, পান করা এবং মসজিদের প্রয়োজনের জন্য সংরক্ষিত। তাই সাধারণভাবে তা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ব্যবহার করা অনুমোদিত নয়।
ফিকহের কিতাবসমূহে উল্লেখ আছে যে, মসজিদের কোনো সম্পদ—যেমন বাতি বা অন্যান্য সামগ্রী—ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যায় না। কারণ এগুলো ব্যক্তিগত মালিকানাধীন নয়, বরং আল্লাহর ঘরের সম্পদ।
এ বিষয়ে ফিকহের গ্রন্থে বলা হয়েছে, মসজিদের জিনিস তত্ত্বাবধায়কেরও ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করার অধিকার নেই, কারণ তিনি মালিক নন, বরং আমানতদার মাত্র।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে। যদি স্থানীয় মসজিদ কমিটি বা কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্তসাপেক্ষে পানি নেওয়ার অনুমতি দেয়—যেমন খরচ বহন করা বা নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা—তাহলে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ হতে পারে। কারণ তখন এটি অনুমোদিত ব্যবস্থাপনার আওতায় পড়ে।
ইসলামী নীতিমালায় বলা হয়েছে, ওয়াকফ সম্পদ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও অনুমতি থাকা জরুরি। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে তা শরীয়তসম্মত হয় না।
সুতরাং, সাধারণ অবস্থায় মসজিদের ট্যাংকের পানি বাড়িতে নিয়ে ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি থাকলে এবং নিয়ম মেনে চললে তা জায়েজ হতে পারে। একজন মুসলমানের দায়িত্ব হলো আল্লাহর ঘরের প্রতিটি জিনিসের প্রতি সম্মান ও সতর্কতা বজায় রাখা।