মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ইরাকে মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলার তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান-সম্পৃক্ত মিলিশিয়ারা ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর ৬০০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে। এই তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম CNN-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকের রাজধানী বাগদাদ-এ অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এছাড়া ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর এরবিল-এ অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।
মার্কিন দূতাবাস থেকে সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো দেশজুড়ে মার্কিন নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত স্থাপনাগুলোর ওপর আরও হামলার পরিকল্পনা করছে। এমনকি ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চল, যেটি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হিসেবে বিবেচিত, সেখানেও হামলার ঝুঁকি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলার পেছনে থাকা মিলিশিয়াদের সঙ্গে ইরানের সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, ইরাক সরকারের কিছু অংশ এই গোষ্ঠীগুলোকে রাজনৈতিক ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরাকের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কে অবগত। তবে এখন তাদের কাছে ‘কথা নয়, কাজ’ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরাক সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনুক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরাকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকার ও বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্ক অনেক সময় জটিল ও অস্পষ্ট থাকে। ফলে এই গোষ্ঠীগুলোকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ নয়। তবুও যুক্তরাষ্ট্র জোর দিচ্ছে, মিলিশিয়াদের সরকারি কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন করা, তাদের অর্থায়ন বন্ধ করা এবং সরকারি বেতন সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
এই পরিস্থিতি শুধু ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরাক প্রায়ই একটি সংঘর্ষক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মতো আধুনিক যুদ্ধকৌশল ব্যবহারের কারণে এসব আক্রমণ আরও জটিল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এতে শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, কূটনৈতিক মিশন ও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।
সব মিলিয়ে, ইরাকে মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলার এই তথ্য নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এখন নজর রয়েছে ইরাক সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং এই উত্তেজনা ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেয় তার ওপর।
কসমিক ডেস্ক