বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ই-স্পোর্টসের অন্যতম বড় আসর ‘ই-স্পোর্টস নেশনস কাপ’-এ প্রথমবারের মতো অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টকে অনেকেই ই-স্পোর্টসের বিশ্বকাপ হিসেবে বিবেচনা করেন। আগামী নভেম্বরে শুরু হতে যাওয়া এই আসরে বাংলাদেশসহ মোট ১৫০টি দেশ অংশ নেবে।
বুধবার (৬ মে ২০২৬) রাজধানীর তোপখানা রোডের হোটেল এশিয়া অ্যান্ড রিসোর্টসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইলেকট্রনিক স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন (BYDESA)-এর সভাপতি ড. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোঃ মুনিরুল ইসলাম।
তিনি জানান, এবারের আসরে বাংলাদেশ ১৫টি ভিন্ন ভিন্ন ই-স্পোর্টস শিরোনামে অংশগ্রহণ করবে। মোট প্রাইজপুল বাংলাদেশি মুদ্রায় ২২০ কোটি টাকারও বেশি, যা দেশভিত্তিক ই-স্পোর্টস টুর্নামেন্টগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, “এই ঐতিহাসিক আসরের অংশ হতে পারা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন। আমরা আশা করছি, আমাদের গেমাররা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো পারফরম্যান্স দেখাবে।”
বাংলাদেশ দল থেকে মোট ৫০ জন গেমার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। পুরো দলটি কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১৫০০ গেমার রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন, যাদের মধ্য থেকে ট্রায়াল ও একাধিক ধাপের যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত দল গঠন করা হয়।
টিম ম্যানেজার আগা রাফসান জানান, বাছাইপর্বে বাংলাদেশকে এশিয়ার শক্তিশালী দেশগুলোর বিপক্ষে লড়তে হবে। মূল পর্বে জায়গা করে নিতে হলে লিডারবোর্ডে শীর্ষ ২ থেকে ৩ অবস্থানে থাকতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই দলটি প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া। সেই অনুযায়ী প্রতিদিনই খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত অনুশীলন চলছে।”
এদিকে দলের কোচরা জানান, প্রস্তুতি চলছে সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে। কোচ ফারহান ইসলাম, মো. আবিদ হোসেন এবং নাজমুস সাকিব বলেন, জাতীয় দলের জন্য গেমার বাছাই করা হয়েছে নিরপেক্ষভাবে। খেলোয়াড়দের স্কিল উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
তারা আরও জানান, যেহেতু মূল আসর শুরু হতে এখনো দুই মাস বাকি, তাই প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় রয়েছে। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে দলকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ই-স্পোর্টসের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ দেশের গেমিং ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি ইতিবাচক দিক। এটি তরুণদের জন্য নতুন ক্যারিয়ার সম্ভাবনাও তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে ই-স্পোর্টস নেশনস কাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের গেমিং সক্ষমতা তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক