পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা পানির মধ্যে থাকা এক অদৃশ্য কিন্তু বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছেন। সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী ‘বায়োকন্টামিন্যান্ট’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘মুক্তজীবী অ্যামিবা’ নামের একধরনের এককোষী জীব বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
অ্যামিবা সাধারণত মাটি ও মিঠা পানিতে পাওয়া যায়। এর বেশিরভাগ প্রজাতি ক্ষতিকর না হলেও কিছু প্রজাতি মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো ‘নেগলেরিয়া ফাউলেরি’, যা ‘মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা’ নামে পরিচিত।
গবেষণায় বলা হয়েছে, দূষিত পানি নাকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে এই অ্যামিবা সরাসরি মস্তিষ্কে পৌঁছে যায় এবং দ্রুত মস্তিষ্কের কোষ ধ্বংস করতে শুরু করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে থাকে।
সান ইয়াত সেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লংফেই শু জানান, এই অ্যামিবা অত্যন্ত সহনশীল প্রকৃতির। উচ্চ তাপমাত্রা এবং শক্তিশালী জীবাণুনাশক ক্লোরিনও এর বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। এছাড়া পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পাইপের ভেতরেও এটি টিকে থাকতে সক্ষম।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, অ্যামিবার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি অন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের জন্য ‘আশ্রয়স্থল’ হিসেবে কাজ করে। বিজ্ঞানীরা একে ‘ট্রোজান হর্স’ প্রভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এর ফলে অন্যান্য রোগজীবাণু পানি পরিশোধন প্রক্রিয়া থেকে বেঁচে গিয়ে আরও শক্তিশালী ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অ্যামিবার বিস্তারও বাড়ছে। আগে যেসব অঞ্চলে এটি দেখা যেত না, এখন সেসব এলাকাতেও এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে হ্রদ ও অপরিষ্কার জলাশয়ে সাঁতার কাটার সময় সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে।
সমাধানের জন্য বিজ্ঞানীরা ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এতে পানি ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা ও পরিবেশ বিজ্ঞান একসঙ্গে কাজ করবে। তারা পানির উৎসে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, আধুনিক শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং সমন্বিত গবেষণার ওপর জোর দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষুদ্র জীবটি খালি চোখে দেখা না গেলেও এর প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। তাই এখনই পানি শোধন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি না করা হলে ভবিষ্যতে এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।