হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে শুরু হওয়া জরুরি টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় ব্যাপকভাবে শিশুদের হামের টিকা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফটিকছড়ি উপজেলায় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, এখানে মোট ৭১ হাজার ৭৪৯ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন এবং ২টি পৌরসভায় মোট ৪৮০টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নাজিরহাট এলাকায় অবস্থিত ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রও পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে নিয়মিতভাবে শিশুদের টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৪ মে) পর্যন্ত ফটিকছড়িতে ৪৭ হাজার ২৯৬ জন শিশু হামের টিকা গ্রহণ করেছে। এই অগ্রগতি স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য একটি ইতিবাচক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। চার বছর বয়সী সন্তানের টিকা নেওয়ার পর অভিভাবক জিয়াউদ্দিন বাদশা বলেন, সরকারের এই উদ্যোগে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাচ্ছে এবং পরিবারগুলো স্বস্তি পাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা নিয়মিতভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় কেন্দ্রগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। স্বাস্থ্য সহকারী ফারহানা আক্তার জানান, যত দ্রুত শিশুদের টিকাদান সম্পন্ন করা যাবে, তত দ্রুত হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, এই কার্যক্রম শুধু টিকা প্রদান নয়, বরং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। রোসাংগিরী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শেখ আশরাফ আলী বাবু জানান, ব্যানার, লিফলেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে অভিভাবকদের টিকা গ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অনেক অভিভাবক শুরুতে কিছুটা দ্বিধায় থাকলেও প্রচারণা এবং সচেতনতার ফলে এখন ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করছেন।
ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আলম জানান, টিকাদান কর্মসূচি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের মধ্যে ৪৭ হাজারের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাকি শিশুদেরও পর্যায়ক্রমে টিকার আওতায় আনা হবে এবং পুরো উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ বদ্ধপরিকর।
সরকারের এই টিকাদান কর্মসূচি শুধু ফটিকছড়ি নয়, সারা দেশেই পরিচালিত হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুদের মারাত্মক সংক্রামক রোগ হামের থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ রোগের ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে কমিয়ে আনা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে হামের মতো রোগ সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিশুদের টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে ফটিকছড়িতে চলমান এই টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ শিশু প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কসমিক ডেস্ক