অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা নীতিমালা পরিবর্তনে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা নীতিমালা পরিবর্তনে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 8, 2026 ইং
অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা নীতিমালা পরিবর্তনে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ছবির ক্যাপশন:

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সাম্প্রতিক ভিসা নীতিমালা পরিবর্তন এবং খরচ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুধু নীতিমালার কঠোরতা নয়, কিছু শিক্ষার্থীর নিয়ম না মানা ও অপব্যবহারও পরিস্থিতিকে জটিল করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, কিছু শিক্ষার্থী পড়াশোনার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে বারবার কোর্স পরিবর্তন, অতিরিক্ত সময় কাজ করা এবং অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত হওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাচ্ছেন। এতে ভিসা শর্ত লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি ও কড়াকড়ি বাড়ছে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়া সরকার পড়াশোনা-পরবর্তী অস্থায়ী স্নাতক ভিসার ফি ২,৩০০ ডলার থেকে ৪,৬০০ ডলারে উন্নীত করেছে। এছাড়াও জেনুইন স্টুডেন্ট (GS) পরীক্ষা চালু, আর্থিক সক্ষমতার সীমা বৃদ্ধি (২৯,৭১০ ডলার) এবং নথিপত্র যাচাই কঠোর করার মতো পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ২০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের বড় অংশ পড়াশোনা শেষে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন। তবে নতুন নীতিমালা এই পথকে আরও জটিল করছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারবেন। তবে বাস্তবে এই সীমা অতিক্রমের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ভিসা জটিলতার কারণ হতে পারে।

সাম্প্রতিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে অস্থায়ী স্নাতক ভিসার বয়সসীমা কমিয়ে ৩৫ বছর করা, অনশোর আবেদনকারীদের জন্য CoE বাধ্যতামূলক করা, এবং ভিসা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশকে 'এভিডেন্স লেভেল ১' থেকে 'লেভেল ৩'-এ নামানো হয়েছে, যা সবচেয়ে কঠোর ক্যাটাগরি। এখন আবেদনকারীদের জন্য আরও বিস্তারিত আর্থিক প্রমাণ, উন্নত ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ এবং যাচাইকৃত একাডেমিক নথি দাখিল করা বাধ্যতামূলক।

শিক্ষা খাত অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি খাত হলেও নীতিমালার কঠোরতা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আগ্রহে প্রভাব ফেলতে পারে। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোও ফি বৃদ্ধি ও নীতিমালার পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা:

  • সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটির মো. ইমাম মেহেদী হাসান লিহাম: “ভিসার ফি হঠাৎ দ্বিগুণ হয়ে বিপাকে পড়েছি। টিউশন ফি বছরে প্রায় ২৮ হাজার ডলার।”
  • সিডনি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদিদ হোসেন: “ভিসার জন্য আবেদন করতে গেলে বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন। অনেকেই দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন।”
  • পাবলিক হেলথ বিভাগের সুমাইয়া জাহান: “পড়াশোনা, কাজ এবং খরচ সবকিছু ব্যালেন্স করা কঠিন। নতুন নিয়মগুলো চাপ বাড়িয়েছে।”

জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ সাউথ ওয়েল্স ইনক-এর সভাপতি মোঃ জাহেদুল হক চৌধুরী বলেন, “নীতিমালার পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তবে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল হতে হবে। ভিসার শর্ত মেনে চলা এবং পড়াশোনাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।”

স্কিলসওয়েভ গ্লোবালের ডিরেক্টর নাসির উদ্দিন বলেন, “অস্ট্রেলিয়া এখন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের গন্তব্য। কিন্তু কঠোর অভিবাসন ও শিক্ষানীতি এবং নিয়ম না মানার প্রবণতা এক বিপজ্জনক ফাঁক তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন নষ্ট করতে পারে।”


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
গণতন্ত্র দমিয়ে রাখলে উগ্রবাদ বাড়ে, জামায়াত প্রসঙ্গে মির্জা ফ

গণতন্ত্র দমিয়ে রাখলে উগ্রবাদ বাড়ে, জামায়াত প্রসঙ্গে মির্জা ফ