সব ট্রেনে বসছে স্টারলিংক ইন্টারনেট, যাত্রীদের জন্য বড় স্বস্তি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সব ট্রেনে বসছে স্টারলিংক ইন্টারনেট, যাত্রীদের জন্য বড় স্বস্তি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 15, 2026 ইং
সব ট্রেনে বসছে স্টারলিংক ইন্টারনেট, যাত্রীদের জন্য বড় স্বস্তি ছবির ক্যাপশন:

দেশের রেলপথে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ইন্টারনেট সমস্যার সমাধানে বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড। পরীক্ষামূলক সফলতার ভিত্তিতে এখন দেশের সব আন্তঃনগর ট্রেনে Starlink ইন্টারনেট চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

স্যাটেলাইটভিত্তিক এই উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা চালু হলে চলন্ত ট্রেনে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু ট্রেনেই নয়, ভবিষ্যতে বাস ও ফেরিতেও একই ধরনের সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা গণপরিবহন ব্যবস্থায় ডিজিটাল সংযোগে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

গত ১৩ মার্চ প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে চলন্ত ট্রেনে এই সেবা চালু করা হয়। প্রাথমিকভাবে পর্যটক এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস এবং বনলতা এক্সপ্রেস-এ ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা দেওয়া হয়। প্রতিটি বগিতে কিউআর কোড সংযুক্ত থাকায় যাত্রীরা খুব সহজেই স্ক্যান করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ইন্টারনেটে যুক্ত হতে পারছেন।

এই পরীক্ষামূলক পর্যায়ে যাত্রীদের কাছ থেকে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। কোনো জটিল সেটআপ ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ তাদের ভ্রমণকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল বা বিচ্ছিন্ন থাকে, সেখানে এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কার্যকর বিকল্প হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক সময়ে যাত্রীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ১১ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহার করেছেন। অনেক যাত্রী পুরো যাত্রাপথে নির্বিঘ্নে ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন মিটিং এবং অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন।

এই সাফল্যের ভিত্তিতে এখন বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালুর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একক সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীরা ট্রেন, বাস ও ফেরিতে একই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ইন্টারনেট সুবিধা নিতে পারবেন। এতে গণপরিবহনে সংযোগব্যবস্থা আরও সহজ ও সমন্বিত হবে।

তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। চলন্ত ট্রেনে স্থাপিত যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, নির্দিষ্ট বগিতে সাময়িক ত্রুটি এবং দ্রুত মেরামতের সীমাবদ্ধতা এখনো বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব সমস্যা মূলত পরিচালনাগত এবং সময়ের সঙ্গে সমাধান করা সম্ভব।

ড. ইমাদুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড, বলেন—এই উদ্যোগ যাত্রীদের কাছে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে এবং এটি দেশে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রতিফলন।

এদিকে দেশের দুর্গম অঞ্চলগুলোতেও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকা, হাওর অঞ্চল এবং যেখানে ফাইবার অপটিক বা মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছানো কঠিন, সেখানে ইতোমধ্যে ১১১টি পয়েন্টে এই সেবা চালু হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের নিজস্ব বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ এর ব্যবহারও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ৬৬টি টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচার সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্যাটেলাইট সেবা রপ্তানির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, স্টারলিংক ইন্টারনেট চালুর এই উদ্যোগ দেশের পরিবহন খাতে একটি বড় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীরা শুধু আরামদায়ক ভ্রমণই নয়, বরং যাত্রাপথেই নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ ও বিনোদনের সুযোগ পাবেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ভিসা চালু হলে তখনই জানানো হবে: ভারতীয় হাইকমিশনার

ভিসা চালু হলে তখনই জানানো হবে: ভারতীয় হাইকমিশনার