চীনের শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত হুনান প্রদেশ-এ ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠেছে পুরো এলাকা। লিউইয়াং শহর-এর একটি আতশবাজি কারখানায় শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৬১ জন।
স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস কারখানা-এ এই বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধোঁয়া ও আগুনে ঢেকে যায়, এবং আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বিস্ফোরণের পরপরই উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। প্রায় ৫০০ জন উদ্ধারকর্মী অভিযান পরিচালনায় অংশ নেন। পাশাপাশি ভবনের ভেতরে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে আধুনিক রোবটও ব্যবহার করা হয়।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। কারণ কারখানার ভেতরে থাকা দুটি গানপাউডার গুদাম উদ্ধারকাজকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছিল। পরবর্তী বিস্ফোরণ এড়াতে পুরো এলাকায় আর্দ্রতা বজায় রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমনকি কাছাকাছি একটি আবাসিক ভবনের জানালার কাচও ভেঙে যায়। অনেক বাসিন্দা আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে চলে যান।
এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বিস্ফোরণের ধাক্কায় তার বাড়ির জানালা ভেঙে যায় এবং দরজা-জানালার কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুহূর্তেই পুরো এলাকা কাঁপিয়ে দেয় এই বিস্ফোরণ।
দুর্ঘটনার পর শি জিনপিং নিখোঁজদের দ্রুত খুঁজে বের করা এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিস্ফোরণের কারণ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
লিউইয়াং শহর আতশবাজি উৎপাদনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এটি চীনের অন্যতম বৃহৎ ফায়ারওয়ার্ক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। তবে এই শিল্পখাতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বারবার আলোচনায় আসে। অতীতেও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও হুবেই প্রদেশ-এ একটি আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত হয়েছিলেন। ফলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের এই শিল্পখাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন জরুরি।
বর্তমানে উদ্ধার অভিযান চলছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সব মিলিয়ে, হুনানের এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ শুধু একটি শিল্প দুর্ঘটনা নয়, বরং চীনের ফায়ারওয়ার্ক শিল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
কসমিক ডেস্ক