সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে ১৬ জন বাংলাদেশি জেলে মিয়ানমারের কোস্টগার্ডের হাতে আটক হয়েছেন বলে জানা গেছে। আটকের ১০ দিন পার হলেও তাদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লিটন দেওয়ান। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মার্চ ‘মা-বাবার দোয়া’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে ১৬ জন জেলে লক্ষ্মীপুরের Ramgati Upazila থেকে মেঘনা নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে রওনা দেন।
ট্রলারে থাকা জেলেদের মধ্যে রামগতি উপজেলার ৯ জন, কমলনগরের ১ জন, নোয়াখালীর সুবর্ণচরের ৩ জন, চট্টগ্রামের ১ জন, কক্সবাজারের মহেশখালীর ১ জন এবং ভোলার দৌলতখানের ১ জন ছিলেন।
জেলেদের পরিবারের দাবি, তারা মাছ ধরার সময় Teknaf-Ukhia maritime border সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকেই মিয়ানমারের কোস্টগার্ড তাদের আটক করে নিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৮ মার্চ আটক জেলেদের সঙ্গে তাদের শেষবার মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। এরপর থেকেই তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং আর কোনোভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে প্রশাসনের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, জেলেরা মিয়ানমারের কোস্টগার্ডের হাতে আটক হয়েছেন।
স্থানীয় নৌ-পুলিশ জানায়, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ১০ জনসহ মোট ১৬ জন জেলে আটকের বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনও তৎপরতা শুরু করেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলেদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলেদের অবস্থান নিশ্চিত করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না পাওয়ায় আটক জেলেদের পরিবারগুলো চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। তারা দ্রুত তাদের স্বজনদের নিরাপদে ফেরত আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক