২০ মাস অনুপস্থিত থাকার পর বেবিচক কর্মকর্তার চাকরি গেল The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

২০ মাস অনুপস্থিত থাকার পর বেবিচক কর্মকর্তার চাকরি গেল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 5, 2026 ইং
২০ মাস অনুপস্থিত থাকার পর বেবিচক কর্মকর্তার চাকরি গেল ছবির ক্যাপশন:

মাত্র ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে দীর্ঘ ২০ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় অবশেষে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক (সিএনএস) মো. আরিফ-উর-রহমান-কে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বেবিচকের সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট ‘স্ত্রীর উচ্চশিক্ষায় সহায়তার’ কথা উল্লেখ করে ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান এই কর্মকর্তা। তবে নির্ধারিত সময় শেষে কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে তিনি বিদেশ থেকেই আরও ছুটি বাড়ানোর আবেদন করতে থাকেন।

ছুটি বাড়ানোর চেষ্টা ও নির্দেশ অমান্য

প্রথমে তিনি ৩ মাস ১৫ দিনের অতিরিক্ত ছুটির আবেদন করেন। কিন্তু বেবিচক সেই আবেদন নামঞ্জুর করে এবং ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে দেশে ফিরে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপরও তিনি সেই নির্দেশ অমান্য করে বিদেশেই অবস্থান করেন।

পরবর্তীতে একের পর এক অজুহাত দেখিয়ে তিনি ছুটি বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। কখনো স্ত্রীর উচ্চশিক্ষা, আবার কখনো সন্তানের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন। এমনকি এক পর্যায়ে তিনি ২ বছরের শিক্ষা ছুটির আবেদনও জমা দেন।

নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ

সরকারি বিধি অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত কর্মকর্তাদের ছুটির আবেদন সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশি দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে করতে হয়। তবে মো. আরিফ-উর-রহমান এই নিয়ম অনুসরণ না করে সরাসরি বেবিচকের কাছে আবেদন করেন, যা বিধিমালার পরিপন্থী।

এ কারণে তার আবেদন বারবার প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং তাকে কাজে যোগ দিতে বলা হয়। কিন্তু তিনি কোনো জবাব না দিয়ে বরং আরও ছুটির আবেদন করে পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলেন।

বিভাগীয় মামলা ও তদন্ত

দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে ২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ এনে বিভাগীয় মামলা করে বেবিচক। তদন্তে উঠে আসে, তিনি পরিকল্পিতভাবে কর্মস্থলে না ফিরে বিভিন্ন অজুহাত ব্যবহার করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুরুতে দেওয়া কারণের সঙ্গে পরবর্তী অজুহাতগুলোর অসামঞ্জস্যতা স্পষ্ট ছিল। এতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আরও জোরালো হয়।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ জানান, বেবিচক একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা চাকরি বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে একাধিকবার কাজে ফেরার সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেছেন। বরং পলায়নরত অবস্থায় থেকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অজুহাত দেখাতে থাকেন।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

তদন্তে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অবশেষে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উপসংহার

এই ঘটনা সরকারি চাকরিতে দায়িত্বশীলতা ও নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা ভবিষ্যতে অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
দীঘিনালা-লংগদু সড়কে বেইলি ব্রিজ ভেঙে বন্ধ ভারী যান চলাচল

দীঘিনালা-লংগদু সড়কে বেইলি ব্রিজ ভেঙে বন্ধ ভারী যান চলাচল