নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাড়াতে ইউরোপকে আহ্বান বার্লিনের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাড়াতে ইউরোপকে আহ্বান বার্লিনের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 2, 2026 ইং
নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাড়াতে ইউরোপকে আহ্বান বার্লিনের ছবির ক্যাপশন:

জার্মানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বোরিস পিস্টোরিয়াস। তিনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন শুক্রবার জানায়, জার্মানি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। এটি ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় সামরিক উপস্থিতির একটি অংশ।

বর্তমানে জার্মানি-তে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এই প্রত্যাহার পুরো উপস্থিতিকে প্রভাবিত না করলেও কৌশলগত দিক থেকে তা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পিস্টোরিয়াস বলেন, এই সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত নয়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জার্মানি থেকে সেনা কমানোর হুমকি দিয়েছিলেন। তাই এই পদক্ষেপের পূর্বাভাস আগেই পাওয়া গিয়েছিল।

সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ এবং বাণিজ্য শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎস-এর সঙ্গে মতবিরোধের কথাও উল্লেখ করেন পিস্টোরিয়াস। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা তীব্র হয়।

তিনি বলেন, ইউরোপের দেশগুলোর এখন নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি করে নেওয়া উচিত। দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের নিরাপত্তা অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

জার্মানি ইতোমধ্যে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী বুন্দেসভেয়ার-এর সদস্য সংখ্যা বর্তমান প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত অস্ত্র ক্রয় এবং সামরিক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও চলছে।

তবে সমালোচকদের মতে, রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি বিবেচনায় এই বৃদ্ধি যথেষ্ট নাও হতে পারে। তারা আরও দ্রুত ও বড় পরিসরে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ন্যাটো সদস্য দেশগুলোও নিজেদের প্রতিরক্ষা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বাজেট সীমাবদ্ধতা ও প্রযুক্তিগত ঘাটতির কারণে ইউরোপের অনেক দেশ এখনো পূর্ণ প্রস্তুতিতে পৌঁছাতে পারেনি।

ঐতিহাসিকভাবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব মোকাবিলায় সেখানে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল।

বর্তমানে জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার মধ্যে রয়েছে রামস্টাইন বিমান ঘাঁটি এবং ল্যান্ডস্টুল আঞ্চলিক মেডিকেল সেন্টার। এসব স্থাপনা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

পেন্টাগনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি পূর্ণাঙ্গ ব্রিগেড জার্মানি থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। এছাড়া দূরপাল্লার অস্ত্র ইউনিট মোতায়েনের পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়েছে, যা জার্মানির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এখন ইউরোপের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ২০২৬ সালে ৩ মার্চ

একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ২০২৬ সালে ৩ মার্চ