সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ভিন্নধর্মী গল্পের নাটক ‘বইপোকা’ দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তরুণ নির্মাতা রাজ্জাক রাজ-এর পরিচালনায় নির্মিত এই নাটকটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। তার বিপরীতে দেখা গেছে এ প্রজন্মের পরিচিত মুখ নীলাঞ্জনা নীলা-কে। তাদের অভিনয় দক্ষতা নাটকটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে বলে মনে করছেন দর্শকরা।
‘বইপোকা’ নাটকটি প্রথম সম্প্রচারিত হয় ১ মে রাতে এটিএন বাংলা-তে। এরপর ২ মে দুপুরে এটি YouTube-এর ‘বিন্দু ভিশন’ চ্যানেলে উন্মুক্ত করা হয়। টেলিভিশন সম্প্রচার এবং অনলাইন রিলিজ—দুই মাধ্যমেই নাটকটি সমানভাবে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
নাটকটির গল্প সমসাময়িক সমাজের অবক্ষয় এবং বই পড়ার গুরুত্বকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। নাট্যকার আল আমিন স্বপন-এর রচনায় নির্মিত এই গল্পটি সমাজে জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে এক ভিন্ন আঙ্গিকে।
গল্পে দেখা যায়, হাসান জহির নামের এক ব্যক্তি শহরের বিলাসবহুল জীবন এবং উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে গ্রামে চলে আসেন। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। তার স্ত্রী মনীষার ভূমিকায় রয়েছেন নীলাঞ্জনা নীলা। গ্রামে এসে হাসান কৃষিকাজের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করতে সচেষ্ট হন।
তিনি শুধু নিজের জীবনধারা পরিবর্তন করেই থেমে থাকেন না, বরং গ্রামের মানুষদেরও বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। যৌতুকপ্রথায় বিশ্বাসী, দুর্নীতিগ্রস্ত মেম্বার, নেশাগ্রস্ত তরুণ কিংবা সামাজিক মাধ্যমে আসক্ত তরুণ প্রজন্ম—সবাইকে তিনি বই পড়ার গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করেন। এমনকি নিজের জমি বিক্রি করে একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার স্বপ্নও দেখেন।
তবে তার এই মহৎ উদ্যোগ সহজভাবে নেয় না গ্রামের কিছু বিপথগামী মানুষ। তারা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির অভিযোগ এনে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। এই প্রতিকূলতার মধ্যেও হাসান তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হন কি না—সেই টানটান উত্তেজনাই নাটকের মূল আকর্ষণ।
নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন শেখ মাহবুবুর রহমান, লিপু মামা, সাবিনা রনি, মুকুল সিরাজ, ইমরান আজান, ইমরান হাসো, মোহাম্মদ রফিক, ফাহমিদা তৃষা, লিমন আহমেদ, মহসিন আকাশ, প্রিম রোজসহ আরও অনেক শিল্পী। তাদের সম্মিলিত অভিনয় নাটকটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
‘বইপোকা’ নাটকের চিত্রগ্রহণ করা হয়েছে গাজীপুরের পূবাইল-এর মনোরম লোকেশনে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং গ্রামীণ আবহ নাটকের গল্পকে বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। চিত্রগ্রহণে দায়িত্ব পালন করেছেন সামসুল ইসলাম লেলিন, ফোরকান উদ্দিন ও জি এস চঞ্চল। এছাড়া প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন আরিফুর রহমান রাহুল।
পরিচালক রাজ্জাক রাজ নাটকটির নির্মাণে সহায়তা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে মোশাররফ করিম এবং অভিনেত্রী রোবেনা রেজা জুঁইসহ কলাকুশলীদের সহযোগিতা নাটকটির সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্মাতার প্রত্যাশা, ‘বইপোকা’ শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে। বর্তমান প্রজন্মকে বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং জ্ঞানচর্চার গুরুত্ব উপলব্ধি করানোই এই নাটকের মূল উদ্দেশ্য।
সব মিলিয়ে, শক্তিশালী গল্প, বাস্তবধর্মী উপস্থাপন এবং চমৎকার অভিনয়ের সমন্বয়ে ‘বইপোকা’ নাটকটি ইতোমধ্যেই দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।