‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ ও ‘মে দিবস’ উপলক্ষে দেশের শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় মে দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’ সামনে রেখে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
তিনি দেশে-বিদেশে কর্মরত সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, জীবিকা নির্বাহ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা প্রত্যেক শ্রমজীবী মানুষের প্রতি তার শ্রদ্ধা রয়েছে।
তিনি ১৮৮৬ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর হে মার্কেটের শ্রমিক আন্দোলনে জীবনদানকারী শ্রমিকদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমজীবী মানুষই একটি দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের নিরলস পরিশ্রমেই শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও অর্থনীতি গড়ে ওঠে। তাই শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা সরকারের অগ্রাধিকার।
তিনি আরও বলেন, শ্রমবান্ধব নীতি প্রণয়ন, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে বলেন, তিনি শ্রমিকদের শক্তিকে দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করতেন এবং তার উদ্যোগে বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সময়ে শ্রম আইন সংস্কার, মজুরি কমিশন গঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠনসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ International Labour Organization-এর ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল অনুস্বাক্ষর করেছে এবং সংস্থাটির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি নিয়মিত মজুরি পর্যালোচনার মাধ্যমে ন্যায্য মজুরি ও নারী-পুরুষ সমান মজুরি নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার বদ্ধপরিকর।
প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন, যা তাদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা জোরদারে সহায়ক হবে।
শেষে তিনি বলেন, শ্রমিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা গেলে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি মহান মে দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
কসমিক ডেস্ক