৬ দিনে দেশে এলো ৬৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

৬ দিনে দেশে এলো ৬৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 7, 2026 ইং
৬ দিনে দেশে এলো ৬৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স ছবির ক্যাপশন:

দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ছয় দিনেই দেশে এসেছে ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, চলতি মাসের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ের প্রবাহে গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এপ্রিলের প্রথম ছয় দিনে মোট ৬৬ কোটি ডলার দেশে এসেছে, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১১ কোটি ডলারের সমান। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৫১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ফলে বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি এই রেমিট্যান্স দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও সহায়ক। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন সংকটের মধ্যেও প্রবাসীদের এই ধারাবাহিক অবদান দেশের অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাস থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত মার্চ মাসে দেশে সর্বোচ্চ ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জানুয়ারি মাসে এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এবং নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়ানো, প্রণোদনা প্রদান এবং প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা বৃদ্ধির কারণে এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। এছাড়া হুন্ডি বা অবৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা কমে আসাও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে তারা সতর্ক করে বলেন, এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য আরও নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান জরুরি। পাশাপাশি প্রবাসীদের আস্থা ধরে রাখতে ব্যাংকিং সেবা সহজ ও দ্রুত করা প্রয়োজন।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, বছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে যে ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে, তা দেশের অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে এবং আমদানি ব্যয় মেটাতে এই প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাঙামাটিতে এনসিপির সাত নেতার একযোগে পদত্যাগ

রাঙামাটিতে এনসিপির সাত নেতার একযোগে পদত্যাগ