নবাবগঞ্জে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামিকে পিটিয়ে হত্যা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নবাবগঞ্জে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামিকে পিটিয়ে হত্যা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 10, 2026 ইং
নবাবগঞ্জে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামিকে পিটিয়ে হত্যা ছবির ক্যাপশন:

ঢাকার Nawabganj Upazila-এ হত্যাচেষ্টা মামলার এক আসামিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দুর্গাপুর বাজার সংলগ্ন ছাতিয়া ব্রিজ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

নিহত ব্যক্তি মিঠুন (৩২), যিনি Agla Union-এর ছাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং কিম্মত আলীর ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিঠুন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চুরি ও মাদকসেবনের অভিযোগ ছিল। গত বছরের মে মাসে সাবেক সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য Dolly Begum-এর বাড়ি থেকে দুটি মোবাইল চুরির ঘটনায় তাকে চিহ্নিত করা হয়। একটি মোবাইল ফেরত দিলেও অন্যটি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে ওই বিরোধের জেরে ডলি বেগমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। গত ২৬ মার্চ তাকে চাকু দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলার তিন নম্বর আসামি ছিলেন মিঠুন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ওই ঘটনার পর থেকেই মিঠুন পলাতক ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি দুর্গাপুর বাজারের কাছে ছাতিয়া-দুর্গাপুর ব্রিজ এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্বশত্রুতার জেরে একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে ধরে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) Md. Mizanur Rahman ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের গণপিটুনি বা প্রতিশোধমূলক সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অপরাধের বিচার আইনের মাধ্যমেই হওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় ব্যক্তিগত বিরোধ, অপরাধ এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি অনেক সময় এ ধরনের সহিংস ঘটনার জন্ম দেয়। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে, নবাবগঞ্জের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে, স্থানীয় পর্যায়ে সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশ–চীন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে হলদিয়ায় নৌবাহিনীর ঘাঁটি

বাংলাদেশ–চীন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে হলদিয়ায় নৌবাহিনীর ঘাঁটি